ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

তীব্র শৈত্যপ্রবাহের আভাস, তাপমাত্রা নামতে পারে ৪ ডিগ্রিতে

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ৩, ২০২৬, ১০:০০ এএম
শীত নিয়ে বড় দুঃসংবাদ। ছবি : সংগৃহীত

সারা দেশে শৈত্যপ্রবাহের তীব্রতা বাড়তে পারে। আজও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কুয়াশা ও শীত প্রবল রয়েছে। পৌষের হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত, বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে। গত তিন দিন ধরেই দেশে শৈত্যপ্রবাহ চলছে, শুক্রবার ২১টি জেলায় এর প্রভাব দেখা গেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও ৬ জানুয়ারি সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় শীতের তীব্রতা বেড়ে যেতে পারে। কোথাও কোথাও তীব্র শৈত্যপ্রবাহের কারণে তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নামার সম্ভাবনা রয়েছে।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের জেলাগুলোর ওপর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। জানুয়ারি মাসে দেশের তাপমাত্রা কোথাও কোথাও ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নামতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে দেশে মোট পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে দুই-তিনটি শৈত্যপ্রবাহ হবে মৃদু থেকে মাঝারি (৮–১০ ডিগ্রি থেকে ৬–৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) এবং এক-দুটি হবে মাঝারি থেকে তীব্র (৬–৮ ডিগ্রি থেকে ৪–৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস)।

যশোরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। শুক্রবারও যশোরে সর্বনিম্ন ৭.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা দেখা গেছে। সব মিলিয়ে এই মৌসুমে চার দিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যশোরে রেকর্ড হয়েছে।

টানা শীতের কারণে শহর ও গ্রামে জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ছিন্নমূল ও প্রান্তিক মানুষ দুর্বিষহ অবস্থায় দিনযাপন করছেন। ঘন কুয়াশার কারণে রাস্তা ও আকাশ পথে যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। গতকাল সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৯টি ফ্লাইট ডাইভার্ট করা হয়, ঢাকার ৯টি ফ্লাইট চলে যায় চট্টগ্রাম, কলকাতা ও ব্যাংককে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক জানান, গত তিন দিন ধরে দেশের বিভিন্ন জেলায় শৈত্যপ্রবাহ চলছে। ৬ থেকে ১২ জানুয়ারির মধ্যে আবার শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে দু-একটি এলাকায় তীব্র শীতের প্রভাবে তাপমাত্রা কমতে পারে। তিনি বলেন, এবার শীত গত বছরের তুলনায় বেশি পড়ছে।

আজ মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, বরিশাল ও ভোলা জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ চলছে, যদিও কিছু কিছু অঞ্চলে তা প্রশমিত হতে পারে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের অনেক জায়গায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে। চালকদের সতর্কতার সঙ্গে যানবাহন চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমি লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে রয়েছে। আপাতত দেশের কোথাও বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই; আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা ও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে। ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৯৫ শতাংশ এবং পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৮–১০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ৫ দিনের মধ্যে তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহজুড়ে কনকনে শীতের আমেজ বজায় থাকবে।