দেশজুড়ে টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিপাতের তীব্রতা কিছুটা কমলেও আবহাওয়ায় এখনো শীতল অনুভূতি বিরাজ করছে। এরই মধ্যে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ায় আগামী পাঁচ দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি, বজ্রবৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে রোববার (২৬ জুলাই) সকাল পর্যন্ত দেশের সাত জেলায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল ৯টার মধ্যে খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের পাশাপাশি মৌসুমি বায়ুর অক্ষ ভারতের রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, লঘুচাপের কেন্দ্র এবং বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল অতিক্রম করে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ওপর মৌসুমি বায়ু সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে তা আরও শক্তিশালী অবস্থায় রয়েছে। এসব কারণেই আগামী কয়েক দিন বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।
রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক এলাকায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু অংশে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি মাত্রার ভারী বৃষ্টিও হতে পারে। এ সময় দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
সোমবার (২৭ জুলাই) খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের অনেক স্থানে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে। এদিন দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
মঙ্গলবার ও বুধবার (২৮-২৯ জুলাই) দেশের প্রায় সব বিভাগেই বৃষ্টিপাতের পরিধি আরও বাড়তে পারে। রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে বিচ্ছিন্নভাবে ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে। এই সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) পর্যন্তও বৃষ্টির এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় এবং রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের অনেক স্থানে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণ হতে পারে, তবে সেদিন দিনের ও রাতের তাপমাত্রা মোটামুটি অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে নোয়াখালীর হাতিয়ায়। এছাড়া লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও খুলনার কয়রায় ১২ মিলিমিটার, কক্সবাজার ও গোপালগঞ্জে ৯ মিলিমিটার, নোয়াখালীর মাইজদীকোর্টে ৭ মিলিমিটার, যশোরে ৬ মিলিমিটার এবং সাতক্ষীরা ও ফেনীতে ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী পাঁচ দিনও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

