রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলতি সপ্তাহজুড়ে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এরই মধ্যে ঈদুল আজহার ছুটিও শুরু হয়েছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদের ছুটি কাটাতে অনেকেই নিজ গ্রামে পৌঁছেছেন। আবার অনেকে শেষ মুহূর্তে বাড়ির পথে ছুটছেন।
বাংলা ক্যালেন্ডারের হিসেবে এখন জ্যৈষ্ঠ মাস। বর্ষাকাল শুরু হতে এখনও দুই সপ্তাহের বেশি সময় বাকি। তবুও গত কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
প্রতি বছর ঈদুল আজহার দিন সারাদেশে ঈদের জামাত ও পশু কোরবানি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঈদের আগে-পরে কয়েক দিনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঈদের দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অস্থায়ী দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষ করে- ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের অনেক এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, মে মাস বজ্রঝড় ও শিলাবৃষ্টির মাস। এ সময় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরি হয়। এই মেঘমালা তৈরি হলে অল্প সময়ের মধ্যেই ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।
একদিকে ঈদের দিন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগে বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে, অন্যদিকে ঈদের আগেও দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, কোরবানির ঈদের আগে বৃষ্টিপাতের কারণে পশুর হাট ও ঈদযাত্রায় ভোগান্তি বাড়তে পারে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঈদের আগের দিন বুধবার রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে। বৃষ্টির কারণে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে।
বৃহস্পতিবার, অর্থাৎ ঈদের দিন, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এ সময় দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।
ঈদের পরদিন শুক্রবার ঢাকাসহ দেশের আট বিভাগেই বিভিন্ন জায়গায় দমকা ও ঝড়ো হাওয়াসহ ভারী বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, আর রাতের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, মে মাস বজ্রপ্রবণ হওয়ায় স্থানীয়ভাবে কোথাও কোথাও অস্থায়ী দমকা বাতাস, ঝড়ো হাওয়া ও কালবৈশাখী ঝড় হতে পারে। তবে বজ্রবৃষ্টির নির্ভুল পূর্বাভাস সাধারণত তিন থেকে চার ঘণ্টা আগে দেওয়া সম্ভব হয়।
আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, কোরবানির ঈদের দিন বৃহস্পতিবার ঢাকাসহ দেশের প্রায় সব বিভাগেই বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঈদের দিন রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের প্রায় ২৬ থেকে ৫০ শতাংশ এলাকায় এবং ঢাকাসহ অন্যান্য বিভাগের ১ থেকে ২৫ শতাংশ এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়াবিদরা জানান, আবহাওয়া অধিদপ্তর গাণিতিক মডেলের মাধ্যমে এই পূর্বাভাস তৈরি করে থাকে। এই মডেল সাধারণত তিন দিন আগ পর্যন্ত তুলনামূলক নির্ভুল পূর্বাভাস দিতে সক্ষম।
এই গাণিতিক মডেল বিশ্লেষণ করে আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক ঈদের দিন ঢাকায় কখন বৃষ্টি হতে পারে, সে বিষয়ে একটি ধারণা দিয়েছেন।
তিনি জানান, ঈদের দিন রাজধানী ঢাকা ও ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় দুই দফায় বৃষ্টিপাত হতে পারে—ভোরবেলা এবং শেষ বিকেলে। তবে বৃষ্টির পরিমাণ হালকা থেকে মাঝারি হতে পারে, ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা কম।
প্রতি ঈদে ঢাকায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ ও খোলা স্থানেও ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।
মল্লিক বলেন, গাণিতিক মডেল অনুযায়ী, ঈদের দিন ভোর থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত ঢাকা বিভাগের কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ঈদের দিনের প্রথম দফার বৃষ্টি ভোরের মধ্যেই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে সকাল ১০টা বা ১১টার পর থেকে বিকেল পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা খুবই কম। শেষ বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে আবার কিছুটা বৃষ্টি হতে পারে, তবে সেটিও তুলনামূলক কম।
তিনি আরও জানান, ঈদের দিন ঢাকায় সর্বোচ্চ ১০ থেকে ২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে, সেটিও ঢাকা বিভাগের দু-একটি এলাকায়। সব জায়গায় নয়।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঈদের দিন বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কয়েকটি এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি। অন্যদিকে খুলনা ও রংপুর বিভাগে বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলক কম রয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন