গিনির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন দেশটিতে ২০২১ সালে সংঘটিত সামরিক অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী মামাদি দুমবুয়া। অভ্যুত্থানের পর দেশটিতে ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত প্রথম নির্বাচনে প্রায় ৮৭ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। এ ফলাফলের মাধ্যমে প্রায় পাঁচ বছর পর দেশটিতে বেসামরিক শাসনে ফেরার পথ তৈরি হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষণায় বলা হয়, দুমবুয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পাওয়ায় তাকে রান-অফে (যখন কোনো প্রার্থী একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় না) যেতে হবে না। তবে কোনো আপত্তি উঠলে ফল যাচাইয়ের জন্য সুপ্রিম কোর্টের হাতে আট দিন সময় থাকবে।
৪১ বছর বয়সী দুমবুয়ার বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আরও আট প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে প্রধান বিরোধী নেতাদের নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। তারা ভোট বর্জনের আহ্বান জানিয়েছিলেন।
দুমবুয়া ২০২১ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আলফা কনদেকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করেন। কনদে ২০১০ সাল থেকে ক্ষমতায় ছিলেন। ২০২০ সালের পর পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকায় সংঘটিত ৯টি সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্যে একটি ছিল এটি। বর্তমানে কনদে ও দীর্ঘদিনের বিরোধী নেতা সেলু দালেইন দিয়ালো নির্বাসনে রয়েছেন।
ক্ষমতা দখলের পর দুমবুয়া প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি নির্বাচনে অংশ নেবেন না। সামরিক অভ্যুত্থানের পর প্রণীত অন্তর্বর্তী সনদে সামরিক সদস্যদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ ছিল। তবে সেপ্টেম্বরে গণভোটে অনুমোদিত নতুন সংবিধানে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়।
নির্বাচন কমিশনের প্রধান জেনাবু তুরে জানান, ভোটার উপস্থিতির হার ছিল ৮০ দশমিক ৯৫ শতাংশ। তবে রাজধানী কোনাক্রিতে ভোটার অংশগ্রহণ তুলনামূলক কম ছিল বলে জানা গেছে। বিরোধী পক্ষ সেপ্টেম্বরের গণভোটের সময়ও উচ্চ ভোটার উপস্থিতির পরিসংখ্যান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন