থাইল্যান্ডে যাত্রীবাহী একটি ট্রেনের ওপর ক্রেন ভেঙে পড়ার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৮-এ দাঁড়িয়েছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ক্রেনটি ধসে পড়ার পর যাত্রীবাহী ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ক্রেনটি একটি নির্মাণাধীন উচ্চগতির রেললাইনের ওপর ছিল বলে জানায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উত্তর-পূর্বে অবস্থিত নাখন রাচাসিমা প্রদেশে এ ঘটনা ঘটে।
নাখন রাচাসিমার প্রাদেশিক জনসংযোগ দপ্তর এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘একটি ক্রেন ট্রেনটির ওপর পড়লে সেটি লাইনচ্যুত হয় এবং আগুন ধরে যায়।’
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে সম্প্রচারিত লাইভ ফুটেজে দেখা গেছে, উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যাচ্ছেন এবং একটি উজ্জ্বল রঙের ট্রেন পাশে পড়ে আছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে।
নাখন রাচাসিমার প্রাদেশিক দপ্তর জানিয়েছে, ট্রেনটি ব্যাংকক থেকে উবন রাতছাঠানি প্রদেশের দিকে চলছিল। পরিবহনমন্ত্রী ফিফাত রাচাকিতপ্রাকর্ন বলেছেন, ট্রেনে ১৯৫ যাত্রী ছিলেন। কর্তৃপক্ষ মৃত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
থাইল্যান্ডে ৫৪০ কোটি ডলারের একটি উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্ক নির্মাণ প্রকল্পের কাজে ক্রেনটি ব্যবহার করা হচ্ছিল। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে চীন সহযোগিতা করছে। এ রেল নেটওয়ার্ক নির্মাণের লক্ষ্য হলো, ২০২৮ সালের মধ্যে ব্যাংকককে লাওসের মাধ্যমে চীনের কুনমিংয়ের সঙ্গে সংযুক্ত করা। এটি চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ অবকাঠামো উদ্যোগের অংশ।
থাইল্যান্ডে শিল্প ও নির্মাণ ক্ষেত্রে দুর্ঘটনা অনেক দিন ধরেই স্বাভাবিক চিত্র হয়ে উঠেছে। সেখানে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিধিমালা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত না হওয়ায় প্রায়ই প্রাণঘাতী ঘটনা ঘটে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন