যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র শীতকালীন ঝড় আঘাত হেনেছে এবং এতে বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে ১০ লাখের বেশি পরিবার। ঝড়ের কারণে বাতিল হয়েছে হাজার হাজার ফ্লাইট; বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বহু সড়ক।
মূলত তুষারপাত, বরফ ও হিমবৃষ্টি মিলিয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে যান চলাচল ও ফ্লাইট পরিষেবা। প্রাণহানিও ঘটেছে একাধিক অঙ্গরাজ্যে। চলমান এই দুর্যোগ আরও কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে বলে কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে। খবর বিবিসির।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, টেক্সাস থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় তুষার, বরফ ও হিমবৃষ্টি মিলিয়ে ‘জীবননাশের ঝুঁকিপূর্ণ’ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং এই পরিস্থিতি কয়েক দিন ধরে চলতে পারে। এমন অবস্থায় লুইজিয়ানায় অন্তত দুজনের মৃত্যু হয়েছে হাইপোথারমিয়ায়।
অঙ্গরাজ্যটির স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, এই শীতকালীন ঝড়ের কারণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। টেক্সাসেও আরও একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সময় রোববার বিকেল পর্যন্ত পাওয়ারআউটেজ ডট ইউএসএর তথ্যে জানা যায়, ঝড়ের জেরে ১০ লাখের বেশি পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। একই সময়ে ফ্লাইট ট্র্যাকিং সাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়ার জানিয়েছে, ১০ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
বিবিসি জানায়, প্রায় ১৮ কোটি মার্কিন নাগরিক বা দেশটির মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি মানুষ ভারী তুষারপাত, শিলাবৃষ্টি ও হিমবৃষ্টির প্রভাবের মুখে পড়তে যাচ্ছেন। হিমবৃষ্টি এমন এক বিপজ্জনক পরিস্থিতি, যেখানে ঠান্ডা হয়ে যাওয়া বৃষ্টির ফোঁটা মাটিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বরফে পরিণত হয়।
কেন্টাকি অঙ্গরাজ্যের গভর্নর অ্যান্ডি বেসিয়ার রোববার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, রাজ্যে প্রত্যাশার চেয়ে বরফ বেশি পড়ছে, তুষার কম। ‘এটা কেন্টাকির জন্য ভালো খবর নয়। এর মানে সড়ক আরও বেশি বিপজ্জনক হবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত চলবে।’
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই ঝড়ের সবচেয়ে বড় বিপদ হলো বরফ। মূলত বরফের কারণে গাছ ভেঙে পড়তে পারে, বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যেতে পারে এবং সড়ককে ভয়ংকরভাবে পিচ্ছিল করে তুলতে পারে। ইতোমধ্যে ঝড়ের জেরে ভার্জিনিয়ায় অন্তত ২০০ গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে বলে খবর দিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি জানান, শনিবার শহরে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে, যদিও তাদের মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। তিনি বলেন, ‘প্রতিবছরই নিউইয়র্কবাসীরা ঠান্ডায় প্রাণ হারান। এই ঘটনা আমাদের সেটিই মনে করিয়ে দেয়।’
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় অর্ধেক অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। ঝড় সোমবার পর্যন্ত চলতে পারে—এমন আশঙ্কায় দেশের বিভিন্ন জায়গায় স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটও সোমবার সন্ধ্যার নির্ধারিত ভোট বাতিল করেছে। দেশটির রাজধানী ওয়াশিংটনে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে মেয়র মুরিয়েল বাউজার বলেন, ‘ডিসিতে গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় তুষারঝড়ের মুখে পড়েছি আমরা।’
মূলত ডাকোটা ও মিনেসোটার মতো উত্তরাঞ্চলের অঙ্গরাজ্যগুলো শীতল তাপমাত্রায় অভ্যস্ত হলেও টেক্সাস, লুইজিয়ানা ও টেনেসির মতো অঙ্গরাজ্যে এ ধরনের চরম ঠান্ডা বিরল। সেখানে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১৫ থেকে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে গেছে।
এই রাজ্যগুলোতে প্রায় এক ইঞ্চি পর্যন্ত বরফ জমতে পারে হিমবৃষ্টির কারণে। এতে দিনের বেলায় বরফ গলে গিয়ে রাতে আবার জমে সড়ক আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে এবং বিদ্যুতের লাইনে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হতে পারে।


