সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সম্পর্কে বেশ অবনতি দেখা দিয়েছে। এমন অবস্থায় ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে দেখা করতে রওনা হয়েছেন ভারতের নেতা।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নিজেই এ কথা জানিয়েছেন। বৈঠকে অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা খাতে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন নেতানিয়াহু।
মন্ত্রিসভা বৈঠকের শুরুতে নেতানিয়াহু বলেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এখানে আসবেন। তিনি নেসেটে (ইসরায়েলি পার্লামেন্ট) বক্তব্য রাখবে। আমি নিশ্চিত, আপনারা সবাই সেখানে উপস্থিত থাকবেন।’ এ সময় দুই দেশের মধ্যে গভীর থেকে গভীরতর হতে থাকা সম্পর্কের প্রশংসা করেন নেতানিয়াহু।
নয় বছর আগে ২০১৭ সালে প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইসরায়েল সফর করেন মোদি। এরপর নেতানিয়াহু পরের বছর পাল্টা সফরে ভারত যান।
আলজাজিরা জানিয়েছে, বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ইসরায়েলে মোদির দুই দিনের সফর শুরু হতে যাচ্ছে। কয়েক দিন আগে ভারতসহ ১০০টি দেশ যৌথভাবে ইসরায়েলের পশ্চিম তীর দখল করে নেওয়ার ইচ্ছার বিরুদ্ধে নিন্দা জানিয়েছে।
কয়েক দশক ধরে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ধারণার প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসলেও ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় শুরু হওয়া ইসরায়েলের গণহত্যামূলক হামলার প্রেক্ষাপটে নীরবতা বজায় রেখেছে নয়াদিল্লি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও প্রযুক্তি খাতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছে ভারত-ইসরায়েল।
গাজায় হামলা শুরুর পর একাধিক পশ্চিমা নেতা তেল আবিব গেলেও দক্ষিণ গোলার্ধের নেতাদের মধ্যে ইসরায়েল সফরের ঘটনা বিরল। এ কারণে মোদির এই সফর বিশেষ তাৎপর্য পাচ্ছে বলে মত দেন বিশ্লেষকরা।
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি এক সম্মেলনে নেতানিয়াহু বলেন, মোদির সঙ্গে বৈঠকে ‘সব ধরনের পারস্পরিক সহযোগিতা’ নিয়ে আলোচনা হবে।
তিনি বলেন, ‘ইসরায়েল ও ভারতের মধ্যে অভাবনীয় মৈত্রী তৈরি হবে এবং আমরা সব ধরনের সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করব। আপনারা জানেন, ভারত কোনো ছোট দেশ নয়। ১৪০ কোটি মানুষ নিয়ে ভারত একটি সুবিশাল, শক্তিশালী ও অত্যন্ত জনপ্রিয় দেশ।’

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন