× UCB Sticker Card
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

বিশ্ব ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ২১, ২০২৬, ০৭:৩৫ পিএম

উত্তাল ভারত, এবার রাস্তায় নেমেছে কৃষকরা

বিশ্ব ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ২১, ২০২৬, ০৭:৩৫ পিএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

প্রস্তাবিত ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির বিরুদ্ধে মহাসমাবেশে অংশ নিতে দিল্লি অভিমুখে যাত্রা করেছেন ভারতের শত শত কৃষক। তারা পাঞ্জাব থেকে যাত্রা শুরু করে। পরে তাদের হরিয়ানায় প্রবেশের পথে শম্ভু সীমান্তে আটকে দেয় পুলিশ।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পাঞ্জাব থেকে রওনা হওয়া কৃষকদের হরিয়ানায় প্রবেশের সময় শম্ভু সীমান্তে ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেওয়া হয়। রাজধানী দিল্লিতে প্রবেশ করতে না পেরে তারা সেখানেই সমাবেশ করেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ চালিয়ে যান।

কৃষক নেতাদের অভিযোগ, দিল্লিতে সমাবেশ করার গণতান্ত্রিক অধিকার বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। তারা এ জন্য হরিয়ানা ও পাঞ্জাব—উভয় রাজ্য সরকারকেই দায়ী করেন।

বিকেইউ (শহীদ ভগৎ সিং)-এর নেতা তেজবীর সিং অভিযোগ করেন, হরিয়ানা পুলিশ পাঞ্জাবের ভৌগোলিক সীমানার ভেতরে প্রবেশ করে ব্যারিকেড স্থাপন করেছে। তার ভাষ্য, এ ঘটনায় পাঞ্জাব সরকার কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

যদিও পাঞ্জাব থেকে আসা কৃষকদের আটকে দেওয়া হয়েছে, হরিয়ানার আম্বালা, কুরুক্ষেত্রসহ বিভিন্ন জেলা থেকে স্থানীয় কৃষকেরা দিল্লির উদ্দেশে যাত্রা অব্যাহত রেখেছেন।

‘দেশ বাঁচাও মোর্চা’র ব্যানারে আয়োজিত কিসান মহাপঞ্চায়েতে পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও হিমাচল প্রদেশের বিভিন্ন কৃষক সংগঠন অংশ নেয়। তাদের প্রধান দাবি, প্রস্তাবিত ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করতে হবে।

কিসান মজদুর সংঘর্ষ কমিটির (কেএমএসসি) নেতা সারওয়ান সিং পান্ধের জানান, কেএমএসসি, কিসান মজদুর মোর্চা (পাঞ্জাব), আজাদ কিসান মোর্চা এবং বিকেইউ একতা সংঘর্ষের সদস্যরা পাঞ্জাবের বিভিন্ন এলাকা থেকে রওনা হলেও শেষ পর্যন্ত শম্ভু সীমান্তেই আটকা পড়েন।

তিনি বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত ভারত-মার্কিন যৌথ বিবৃতিতে ওই বছরের শরতের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির প্রথম ধাপ চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে এই চুক্তি শুধু বাণিজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর আওতায় কৃষি, দুগ্ধজাত পণ্য, শিল্প, ডিজিটাল বাণিজ্য, ই-কমার্স, বিনিয়োগ, সরকারি ক্রয়, মেধাস্বত্ব ও সেবা খাতও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

কৃষক সংগঠনগুলোর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ভারতের কৃষি ও দুগ্ধ খাতে আরও বেশি বাজার প্রবেশাধিকার চেয়ে আসছে। বিশেষ করে সয়াবিন, ভুট্টা, তুলা, ইথানল, আপেল, বাদাম, দুগ্ধজাত পণ্য, পোলট্রি ও মৎস্যপণ্যের ওপর শুল্ক কমানো এবং বিধিনিষেধ শিথিলের চাপ রয়েছে।

তাদের আশঙ্কা, ভর্তুকিপ্রাপ্ত মার্কিন কৃষিপণ্য ও দুগ্ধজাত পণ্যের জন্য ভারতের বাজার উন্মুক্ত করে দেওয়া হলে দেশের কোটি কোটি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবেন না। পাশাপাশি চুক্তির খসড়া ও শর্তাবলি এখনো জনসমক্ষে প্রকাশ না করায় পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

কৃষক নেতাদের ভাষ্য, ভারতের দুগ্ধ খাতের ওপর প্রায় ৮ কোটি গ্রামীণ পরিবারের জীবিকা নির্ভরশীল। ফলে এ খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে কৃষক, দুগ্ধ উৎপাদক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কৃষিভিত্তিক শিল্প এবং সামগ্রিক গ্রামীণ অর্থনীতি বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।

এ কারণে ‘দেশ বাঁচাও মোর্চা’ কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে প্রস্তাবিত ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির সব নথি জনসমক্ষে প্রকাশ এবং কৃষক, শ্রমিক, দুগ্ধ উৎপাদক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া কোনো চুক্তি স্বাক্ষর না করার দাবি জানিয়েছে।

Link copied!