মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাতের মধ্যে ওমান উপসাগরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির কাছে একটি তেলবাহী জাহাজে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
ওমানের মেরিটাইম সিকিউরিটি সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, নিহতরা হলে- জাহাজটির ক্যাপ্টেন আশিশ কুমার এবং ক্রু সদস্য দলিপ সিং। আশিশ কুমার ভারতের বিহারের পশ্চিম চম্পারণ জেলার বেতিয়ার বাসিন্দা এবং দলিপ সিং রাজস্থানের নাগৌর জেলার খিনওয়াতানা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
গত ১ মার্চ পালাউয়ের পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ ‘স্কাইলাইট’ ওমানের খাসাব বন্দর থেকে প্রায় পাঁচ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থান করছিল।
এ সময় হঠাৎ একটি ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন নৌযান জাহাজটির সামনের অংশে আঘাত হানে। এতে জাহাজে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়।
জানা গেছে, ক্যাপ্টেন আশিশ কুমারের মরদেহ তার কেবিন থেকে উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, গত ২০ জানুয়ারি তিনি মার্চেন্ট নেভিতে যোগ দেন এবং ২২ ফেব্রুয়ারি ওই জাহাজে দায়িত্ব নেন।
অন্যদিকে, জাহাজের সামনের অংশে দায়িত্ব পালনকালে দলিপ সিংয়ের মৃত্যু হয়। আগুনে তাদের দেহ মারাত্মকভাবে পুড়ে যায় বলে জানা গেছে।
ক্যাপ্টেন আশিশের ছোট ভাই শুভম জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে তারা প্রথম হামলার খবর পান। নিহতদের পরিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের কাছে দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার আবেদন জানিয়েছে।
এ হামলার ঘটনা এমন সময়ে ঘটল যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত সমুদ্রপথ। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেইর মৃত্যুর পর দেশটি ওই অঞ্চলে জাহাজ চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। এর আগে মার্কিন সাবমেরিনের হামলায় ইরানের যুদ্ধজাহাজ ‘আইরিস ডেনা’ ডুবে যাওয়ার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বেড়েছে এবং বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
ওমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাহাজটিতে মোট ২০ জন ক্রু সদস্য ছিলেন, যাদের মধ্যে ১৫ জনই ভারতীয়। বাকিদের উদ্ধার করা সম্ভব হলেও দুই ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন