ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আরাদ ও দিমোনায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে অন্তত ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার (২১ মার্চ) ইসরাইলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের ছোড়া অন্তত দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ব্যর্থ হলে সেগুলো সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানায় হতাহতের ঘটনা ঘটে। আরাদ ও দিমোনা শহর দু’টি ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনার নিকটবর্তী এলাকায় অবস্থিত।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আরাদ শহরে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে অন্তত ৫৯ জন আহত হন। এর মধ্যে ৬ জনের অবস্থা গুরুতর।
হামলার পর ইসরাইলের অগ্নিনির্বাপণ বিভাগ এক বিবৃতিতে জানায়, আরাদ শহরের কেন্দ্রস্থলে একটি আবাসিক ভবনের মাঝখানে ক্ষেপণাস্ত্রটি সরাসরি আঘাত করেছে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে দিমোনা শহরেও ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে একটি তিনতলা ভবন ধসে পড়ে এবং অন্তত ৩৯ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। তবে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি, ইসরাইলের জরুরি চিকিৎসাসেবা সংস্থা ম্যাগেন ডেভিড অ্যাডমের (এমডিএ) বরাত দিয়ে জানিয়েছে, আহতের সংখ্যা কমপক্ষে ৪৭ জন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করেছে, শনিবার দিনের শুরুতে ইরানের নাতাঞ্জ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। হামলাটি দিমোনার বাইরে প্রায় ১০ কিলোমিটার এবং আরাদের বাইরে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ইসরাইলের পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে চালানো হয়।
এদিকে ইসরাইলি বিমানবাহিনী জানিয়েছে, কেন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্রটি মাঝপথে ধ্বংস করতে ব্যর্থ হলো, তা খতিয়ে দেখা হবে।
ইসরাইলের সামরিক বাহিনীর বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যম আরুতজ শেভা জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি ধ্বংস করতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর সেটি আরাদ শহরে সরাসরি আঘাত হানে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন