ইরান থেকে ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলের দুটি শহর—আরাদ ও দিমোনা—ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার গভীর রাতের এ হামলায় অন্তত ১৬০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
আহতদের মধ্যে আরাদ শহরে ৮৪ জন এবং দিমোনায় আরও ৭৮ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলার ফলে আরাদের অন্তত দুটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভবনগুলোর বাইরের দেয়ালের বড় অংশ ভেঙে পড়েছে, জানালাগুলো উড়ে গেছে এবং আশপাশের এলাকায় ধ্বংসস্তূপ ছড়িয়ে পড়েছে। রোববার সকালে ঘটনাস্থলে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভিড় দেখা যায়, যারা ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা দেখতে জড়ো হন।
নেগেভ মরুভূমি অঞ্চলে অবস্থিত আরাদ শহরটি মূলত রক্ষণশীল ইহুদি অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে, দিমোনা শহরটি ইসরায়েলের একটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনার নিকটবর্তী হওয়ায় কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল।
আন্তর্জাতিক সংস্থা আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, দিমোনার প্রায় ১৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্রে এই হামলায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করেছে, ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনায় আগের হামলার জবাব হিসেবেই এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
এই হামলা থেকে বোঝা যায়, ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সবসময় সম্পূর্ণ নির্ভুল নয়। কীভাবে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সেই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পেরেছে, তা খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে।
এর আগেও গত বছরের ১২ দিনের সংঘাতে একই ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিল ইসরায়েল। সর্বশেষ এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে এবং মানবিক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।


-20260322094500.webp)
সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন