× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

বিশ্ব ডেস্ক

প্রকাশিত: মার্চ ২৬, ২০২৬, ১১:১৪ এএম

ইসরায়েলি পার্লামেন্টে বিতর্কিত বিলের অনুমোদন

বিশ্ব ডেস্ক

প্রকাশিত: মার্চ ২৬, ২০২৬, ১১:১৪ এএম

ছবি  : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে কথিত ‘সন্ত্রাসবাদের’ অভিযোগে অভিযুক্ত ফিলিস্তিনিদের জন্য মৃত্যুদণ্ড চালুর বিতর্কিত বিল চূড়ান্ত ভোটের জন্য প্রস্তুত করেছে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট (নেসেট)। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) নেসেটের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কমিটি বিলটি অনুমোদন দেয়। 

প্রস্তাবিত এই আইনে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনি বন্দিদের মধ্যে যাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে, তাদের জন্য আলাদা বন্দিশালা তৈরি করা হবে। সেখানে অনুমোদিত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ দেখা করতে পারবেন না এবং আইনি পরামর্শও কেবল ভিডিও লিংকের মাধ্যমে দেওয়া হবে। সাজা ঘোষণার ৯০ দিনের মধ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে এই বিলে।

বিলের অন্যতম প্রধান পরিবর্তন হলো- বিচারকদের রায়ের প্রক্রিয়া। আগে মৃত্যুদণ্ডের জন্য বিচারকদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের প্রয়োজন থাকলেও, নতুন এই আইন অনুযায়ী কেবল সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতেই সাজা দেওয়া যাবে।

এমনকি সরকারি কৌঁসুলিদের পক্ষ থেকে আবেদন না থাকলেও আদালত সরাসরি মৃত্যুদণ্ড দিতে পারবেন। অধিকৃত পশ্চিম তীরের সামরিক আদালতগুলোকেও এই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

আইনটিতে ফিলিস্তিনিদের জন্য বৈষম্যমূলক বিধান রাখার অভিযোগ উঠেছে। বিলের খসড়া অনুযায়ী, অধিকৃত অঞ্চলের ফিলিস্তিনিদের জন্য আপিল বা সাজা কমানোর কোনো সুযোগ থাকবে না। 

অথচ ইসরায়েলের ভেতরে বিচার হওয়া বন্দিদের ক্ষেত্রে সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন করার পথ খোলা রাখা হয়েছে। ইসরায়েলি পাবলিক ব্রডকাস্টার ‘কান’ জানিয়েছে, এই মৃত্যুদণ্ড ফাঁসিতে ঝুলিয়ে কার্যকর করা হবে।

জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এই বিলের অন্যতম প্রধান সমর্থক। তিনি প্রকাশ্যেই গলায় ‘ফাঁসির দড়ির’ আদলে তৈরি পিন পরে বিলটির পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন। 

তিনি জানিয়েছেন, ফাঁসি ছাড়াও ইলেকট্রিক চেয়ার বা বিষপ্রয়োগে মৃত্যুর (ইউথানাসিয়া) মতো বিকল্পগুলোও বিবেচনায় আছে। এমনকি তিনি দাবি করেছেন যে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে সহায়তা করতে কিছু চিকিৎসক ইতোমধ্যেই সম্মতি দিয়েছেন।

এদিকে এই বিল নিয়ে খোদ ইসরায়েলের ভেতরেই উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দেশটির বিচার ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, এই আইন আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হতে পারে, যা বিদেশের মাটিতে ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির ঝুঁকি তৈরি করবে। 

জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই বিলের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি মানুষের জীবনের অধিকার এবং যাতনামুক্ত থাকার মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি।

ইসরায়েলের মানবাধিকার সংস্থা বি’সেলেম-এর নির্বাহী পরিচালক ইউলি নোভাক বলেন, ইসরায়েল ইতোমধ্যে নিয়মিতভাবে ফিলিস্তিনিদের হত্যা করছে—তা আটক কেন্দ্রে হোক বা মাঠ পর্যায়ে। এই আইনটি সেই দমন-পীড়নের একটি নতুন হাতিয়ার মাত্র।

উল্লেখ্য, ১৯৬২ সালে নাৎসি যুদ্ধাপরাধী অ্যাডলফ আইখম্যানের পর ইসরায়েল আর কাউকে ফাঁসিতে ঝোলায়নি। 

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!