ওমান উপসাগরে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের একটি আধুনিক ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানোর দাবি করেছে ইরানের নৌবাহিনী। তেহরানের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই মার্কিন যুদ্ধজাহাজটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজের বিরুদ্ধে পরিচালিত বিভিন্ন মার্কিন তৎপরতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ অভিযোগ নাকচ করে জানিয়েছে, ইরানের দাবি ভিত্তিহীন এবং বাস্তবতার সঙ্গে এর কোনো মিল নেই।
বুধবার (৪ জুন) বার্তা সংস্থা আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের নৌবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ওমান উপসাগরে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের একটি ডেস্ট্রয়ারকে তারা সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করে। তাদের দাবি, মার্কিন ওই ডেস্ট্রয়ারটি আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘন করে ইরানের আঞ্চলিক সমুদ্রসীমার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছিল।
ইরানের নৌবাহিনী আরও দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী কর্মকাণ্ড, হরমুজ প্রণালিতে নিয়ম লঙ্ঘন এবং ওমান উপসাগরে ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার উপযুক্ত জবাব হিসেবেই তারা শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডের এই মূল ‘কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার’কে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ অঞ্চলে মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ সামরিক তৎপরতার ওপর তারা কঠোর নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। একই সঙ্গে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বুধবার গভীর রাতে ইরানের এ দাবি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে।
সেন্টকম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় বলেছে, ‘ইরান বিশ্ববাসীর কাছে স্পষ্ট মিথ্যা বলছে।’ তারা আরও দাবি করেছে, সমুদ্রে অবস্থানরত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের সামরিক সম্পদ ও যুদ্ধজাহাজ সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে এবং স্বাভাবিকভাবেই তাদের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন