যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে এক আলোচনাসভা যুদ্ধবিরতি কার্যকরে সম্মত হয়েছে লেবানন ও ইসরায়েল। একই সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহকে অবশ্যই সব ধরনের হামলা ‘সম্পূর্ণভাবে বন্ধ’ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এক যৌথ বিবৃতিতে উভয় পক্ষ জানায়, লিতানি নদীর দক্ষিণের এলাকা থেকে হিজবুল্লাহর গোলাবর্ষণ সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে এবং ওই অঞ্চল থেকে সংগঠনটির সব সদস্যকে সরিয়ে নিতে হবে- এই শর্তে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।
নিরাপত্তা অঞ্চলগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট করা হয়নি। তবে চুক্তি অনুযায়ী, লেবাননের সেনাবাহিনীকে ওই এলাকার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এই পদক্ষেপগুলো একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তি ও নিরাপত্তা চুক্তির দিকে অগ্রগতি সম্ভব করবে।’
এতে আরও বলা হয়, ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যকার সম্পর্কের ভবিষ্যৎ অবশ্যই দুটি সার্বভৌম সরকারের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। একই সঙ্গে তারা যেকোনো রাষ্ট্র বা অ-রাষ্ট্রীয় পক্ষের মাধ্যমে লেবাননের ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত বা জিম্মি করার প্রচেষ্টাকে প্রত্যাখ্যান করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইরানের প্রতি একটি ইঙ্গিত- যা হিজবুল্লাহকে সমর্থন করে। পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি সাময়িক সমঝোতার অংশ হিসেবেও বিষয়টি দেখা হচ্ছে। তবে হিজবুল্লাহ ইসরায়েল–লেবানন আলোচনার অংশ ছিল না।
এদিকে উভয় দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও তারা নির্দিষ্ট কিছু পাইলট জোন বা পরীক্ষামূলক এলাকা গঠনে একমত হয়েছে। এসব এলাকায় লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে এবং হিজবুল্লাহর মতো কোনো গোষ্ঠীর উপস্থিতি থাকবে না।
উভয় পক্ষের মধ্যে আন্তঃসীমান্ত হামলা অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও এই যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত এসেছে। বুধবার দিনের শুরুতে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করে। অন্যদিকে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত নয়জন নিহত হন।
যৌথ বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার বিষয়টি হিজবুল্লাহর হামলা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা এবং দক্ষিণ লেবানন থেকে তাদের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার ওপর নির্ভর করছে।
গত ২ মার্চ ইরানের সমর্থনে হিজবুল্লাহর নতুন করে ইসরায়েলে হামলা শুরুর পর এটি ছিল দুই দেশের কূটনীতিকদের মধ্যে চতুর্থ দফার সরাসরি বৈঠক।
বিবৃতি অনুযায়ী, ২২ জুন বা তার পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ চুক্তির লক্ষ্যে উভয় পক্ষ পরবর্তী দফার আলোচনায় বসবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন