ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও দ্বীপে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন অন্তত ১২৯ জন। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বিবিসি তাদের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে সোমবার (৮ জুন) স্থানীয় সময় সকালে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর পরপরই উপকূলীয় এলাকায় সুনামির ঢেউ আছড়ে পড়ে এবং ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ফিলিপাইনের সিভিল ডিফেন্স অফিস হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ১২ জনই সোকসারগেন অঞ্চলের বাসিন্দা। অঞ্চলটি সাউথ কোটাবাটো, সুলতান কুদারাত, সারাঙ্গানি প্রদেশ এবং জেনারেল সান্তোস সিটি নিয়ে গঠিত। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ফিলিপাইন ইনস্টিটিউট অব ভলকানোলজি অ্যান্ড সিসমোলজির তথ্যমতে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল মিন্দানাও দ্বীপের জেনারেল সান্তোস সিটির দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং এর গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার। তবে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) এর গভীরতা ৫৫ কিলোমিটার বলে জানিয়েছে।
ভূমিকম্পের পর পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে একের পর এক পরাঘাত। স্থানীয় সময় সকাল ১১টা পর্যন্ত মোট ১৩৮টি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটির মাত্রা ৬ এর ওপরে ছিল। এসব পরাঘাতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
দুর্যোগে দক্ষিণ ফিলিপাইনের বিভিন্ন এলাকায় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। অন্তত দুই ডজনের বেশি ভবন আংশিক বা পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক ভবনের সংখ্যাই বেশি।
ভূমিকম্পের পর ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার কিছু উপকূলীয় এলাকার জন্য সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। ফিলিপাইনের ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানিয়েছে, মিন্দানাও দ্বীপের ছয়টি এলাকায় সুনামির ঢেউ রেকর্ড করা হয়েছে। সর্বোচ্চ ঢেউয়ের উচ্চতা ছিল ১ দশমিক ৪ মিটার।
আঞ্চলিক সিভিল ডিফেন্স অফিসের পরিচালক রদ্রিগো সোসমেনিয়া বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। অনেক স্থানে এখনও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি সুনামি ঝুঁকিতে থাকা মানুষকে নিরাপদ ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সুনামি সতর্কতা এখনও পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়নি। উপকূলবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দাদের পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সতর্ক অবস্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন