যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন ৫৬ বছর বয়সী অ্যান্ডি বার্নহাম। গত এক দশকে তিনি দেশটির সপ্তম প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। গ্রেটার ম্যানচেস্টরের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ‘কিং অব দ্য নর্থ’ নামে পরিচিতি পান।
সোমবার (২০ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।
দায়িত্ব গ্রহণকালে অ্যান্ডি বার্নহাম প্রতিশ্রুতি দেন, জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট, দুর্বল জনসেবা এবং জনগণের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো সমাধানে রাষ্ট্র পরিচালনার ধারা নতুনভাবে সাজাবেন।
এর আগে বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী ও লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমার ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে দেওয়া বিদায়ী ভাষণে বলেন, আমার কাজ শেষ হয়েছে। আমি হাসিমুখে ও সৌজন্যের সঙ্গে বিদায় নিচ্ছি।
আনুষ্ঠানিকভাবে রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর বার্নহামকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন রাজা। এরপর মন্ত্রিসভা গঠন করবেন নতুন প্রধানমন্ত্রী।
দায়িত্ব নেওয়ার পর বার্নহামকে দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল পারফরম্যান্স করা ইউটিলিটি সেবাসহ নানা জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।
প্রায় এক মাস আগে লেবার পার্টির এমপিদের ভোটে নেতৃত্ব হারানো স্টারমার বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান। এখন আমি দায়িত্ব অ্যান্ডি বার্নহামের হাতে তুলে দিচ্ছি এবং তার সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করছি।
তিনি আরও বলেন, বার্নহাম আমার পূর্ণ সমর্থন পাবেন।
বার্নহামের কার্যালয় জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে ভাষণ দেবেন তিনি। সেখানে আরও স্থিতিশীল ও দায়িত্বশীল রাজনীতির রূপরেখা তুলে ধরবেন।
তিনি এই নিয়োগকে আত্মসমালোচনার একটি মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, যুক্তরাজ্যের বাস্তব সমস্যাগুলো সম্পর্কে সৎ হওয়ার সময় এসেছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার মাধ্যমেই দেশের উন্নতি সম্ভব।
গত শুক্রবার লেবার পার্টির নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর বার্নহাম বলেছিলেন, গত ৪০ বছরে ব্রিটিশ রাজনীতিতে এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মুহূর্ত।

