সুদানের দক্ষিণ করদোফান প্রদেশের আল কুয়েইক সামরিক হাসপাতালে দেশটির বিদ্রোহী আধা-সামরিক বাহিনী আরএসএফের হামলায় কমপক্ষে ২২ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দেশটির চিকিৎসা সূত্রের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করে বার্তা সংস্থা আনাদোলু।
নিহতদের মধ্যে চারজন চিকিৎসাকর্মী বলে জানিয়েছে সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক। সংগঠনটি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও চিকিৎসাকর্মীদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো একটি যুদ্ধাপরাধ এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও বেসামরিক মানুষ ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান সুরক্ষার আন্তর্জাতিক বিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
বিবৃতিতে বলা হয়, এই হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। দক্ষিণ করদোফানজুড়ে ধারাবাহিক হামলার অংশ হিসেবেই এটি ঘটেছে।ফলে একাধিক হাসপাতাল কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এতে মানবিক সংকট আরও তীব্র হচ্ছে এবং বেসামরিক মানুষের জন্য অবশিষ্ট স্বাস্থ্যসেবাও মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়ছে।
সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক হামলার জন্য আরএসএফকে সম্পূর্ণভাবে দায়ী করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, জাতিসংঘের সংস্থা এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতি চিকিৎসা স্থাপনায় বারবার হামলা বন্ধে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতেও আহ্বান জানিয়েছে।
তবে এই অভিযোগের বিষয়ে আরএসএফের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংবাদমাধ্যম বলছে, সুদানের ১৮টি প্রদেশের মধ্যে পশ্চিমাঞ্চলের দারফুর অঞ্চলের পাঁচটি প্রদেশের প্রায় পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ রয়েছে আরএসএফের হাতে। কেবল উত্তর দারফুরের কিছু অংশ এখনো সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আছে। রাজধানী খার্তুমসহ দেশের দক্ষিণ, উত্তর, পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলের বাকি ১৩টি প্রদেশের বেশির ভাগ এলাকা সেনাবাহিনীর দখলে রয়েছে।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে শুরু হওয়া এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন