সুদানে পৃথক দুটি ড্রোন হামলায় অন্তত ২৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। নিহতদের মধ্যে শিশু ও সাধারণ পথচারীও রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর মধ্যে টানা তিন বছর ধরে চলমান সংঘাতে সম্প্রতি ড্রোন হামলার মাত্রা বেড়েছে। এসব হামলায় এক সঙ্গে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটছে।
গতকাল বুধবার (২৫ মার্চ) উত্তর দারফুর রাজ্যের সারাফ ওমরা শহরের একটি বাজারে চালানো ড্রোন হামলায় অন্তত ২২ জন নিহত হন, এর মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে।
এ ঘটনায় আরও ১৭ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় একটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যকর্মী এএফপিকে জানান।
স্থানীয় ব্যবসায়ী হামিদ সুলেইমান জানান, একটি ড্রোন বাজারে পার্ক করা তেলের ট্রাকে আঘাত হানে। এতে বিস্ফোরণ ঘটলে আগুন দ্রুত বাজারের একাংশে ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে, দারফুর থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার পূর্বে উত্তর কর্দোফান রাজ্যের একটি সড়কে আরেকটি ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে একটি চলন্ত ট্রাকে আগুন ধরে যায়।
এল-রাহাদ এলাকার একটি হাসপাতালের চিকিৎসা সূত্র জানায়, ওই হামলায় ছয়জন নিহত হয়েছেন, এদের মধ্যে তিনজন আগুনে পুড়ে মারা গেছেন।
এ ছাড়া অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ হামলার জন্য আরএসএফকে দায়ী করা হয়েছে।
হামলার সময় বেসামরিক নাগরিকরা সেনাবাহিনী-নিয়ন্ত্রিত এল-রাহাদ ও উম রাওয়াবা শহরের মধ্যে যাতায়াত করছিলেন।
উল্লেখ্য, উভয় পক্ষই সুদানের কেন্দ্রীয় পূর্ব-পশ্চিম মহাসড়কে বারবার ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি উত্তর কর্দোফানের রাজধানী এল-ওবেইদের মধ্য দিয়ে গেছে এবং দারফুরকে সেনাবাহিনী-নিয়ন্ত্রিত পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে।
সুদানে চলমান সংঘাতে এরই মধ্যে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এটি বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকটগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন