ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সিরিয়ায় আসাদ সরকারের কর্মকর্তাদের বিচার শুরু

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: এপ্রিল ২৬, ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম
আতেফ নাজিব। ছবি : সংগৃহীত

সাবেক প্রেসিডেন্ট বাসার আল আসাদ সরকারের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিচারকাজ শুরু করেছে সিরিয়া। দেশটিতে গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার ১৫ বছর পর, এ বিচার কাজ শুরু হল।

রোববার (২৬ এপ্রিল) সানার আদালত দক্ষিণ সিরিয়ার দেরা প্রদেশের সাবেক রাজনৈতিক নিরাপত্তা প্রধান আতেফ নাজিবের বিচার কার্যক্রম শুরু করে। তিনি বাসার আল আসাদের চাচাতো ভাই। ২০১১ সালের অভ্যুত্থানের সময় ‘সিরিয়ার জনগণের বিরুদ্ধে অপরাধের’ অভিযোগ আনা হয়েছে  তার বিরুদ্ধে।

আগামী মাসে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পূর্বে রোববারের প্রস্তুতি মূলক বিচারিক কার্যক্রমে আসামি পক্ষের মধ্যে শুধু তিনিই উপস্থিত ছিলেন। এ মামলায় বাসার আল আসাদ, তার ভাই সিরিয়া সেনাবাহিনীর সাবেক কমান্ডার মাহেরসহ সরকারের অনেক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা অভিযুক্ত হয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, নির্যাতন, চাঁদাবাজি ও মাদক পাচারের অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে, আদালতের বাইরে বিচারিক কার্যক্রম দেখতে উপস্থিত হয় হাজার হাজার মানুষ। বিচারিক কার্যক্রমে যোগ দেন ভুক্তভোগী অনেক পরিবার।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিরিয়ার বিচার মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মুবাশের বলেছেন, বিচার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে স্বচ্ছতা ও বিচারিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে প্রকাশ্যে বিচারকার্য পরিচালনা করা হচ্ছে।

দেরার একটি স্কুলের দেয়ালে সরকারবিরোধী গ্রাফিতি আঁকার অভিযোগে কিশোরদের গ্রেপ্তার ও নির্যাতন করার সময় নাজিব সেখানকার রাজনৈতিক নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন; এই ঘটনাটি বৃহত্তর গণঅভ্যুত্থানের অনুঘটক হয়ে ওঠে।

পরবর্তী বিক্ষোভগুলো সরকারের নৃশংস দমনপীড়নের শিকার হয় এবং তা এক ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়, যা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিদ্রোহীদের এক আকস্মিক আক্রমণে আল-আসাদের ক্ষমতাচ্যুতির মাধ্যমে শেষ হয়  । এরপর আল-আসাদ রাশিয়ায় পালিয়ে যান এবং তার ঘনিষ্ঠ বৃত্তের বেশিরভাগ সদস্যও সিরিয়া থেকে পালিয়ে গেছেন।

এতদিন বিচার প্রক্রিয়া শুরু করতে বিলম্বের জন্য সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছেন সিরিয়ার অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান আহমেদ আল-শারা। এ যুদ্ধে প্রায় পাঁচ লক্ষ মানুষ নিহত হয়েছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এখন আল-আসাদের সাথে যুক্ত কর্মকর্তাদের বিচারের আওতায় আনতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।

শুক্রবার সিরীয় কর্তৃপক্ষ দামেস্কে ২০১৩ সালের তাদামন হত্যাকাণ্ডের প্রধান সন্দেহভাজন, সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা আমজাদ ইউসুফকে গ্রেপ্তার করেছে । এ ঘটনায় অন্তত ৪১ জন নিহত হয়েছিলেন। ২০২২ সালে ফাঁস হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ইউসুফ চোখ ও হাত বাঁধা অবস্থায় আটক বেসামরিক নাগরিকদের গুলি করছেন।