ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ডিআরসি কঙ্গোতে ভয়াবহ হামলা, নিহত ৬৯

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মে ১১, ২০২৬, ১০:২১ এএম
কঙ্গো (ডিআরসি)-র উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে সশস্ত্র বিদ্রোহীদের হামলা। ছবি : সংগৃহীত

গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো (ডিআরসি)-র উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে সশস্ত্র বিদ্রোহীদের হামলায় অন্তত ৬৯ জন নিহত হয়েছেন। হামলাটি গত মাসের শেষের দিকে ঘটলেও চলমান নিরাপত্তাহীনতার কারণে কয়েকদিন ধরে মৃতদেহ উদ্ধার কার্যক্রম বিলম্বিত হয়।

গত শনিবার (৯ মে) জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন এ তথ্য জানায়।

সংস্থাটির মতে, দেশটির পূর্বাঞ্চলে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে প্রাণঘাতী হামলার একটি ‘ঢেউ’ দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইতুরি, উত্তর কিভু এবং দক্ষিণ কিভু প্রদেশে কয়েক ডজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, যদিও বিস্তারিত তথ্য এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।

খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ পূর্বাঞ্চলীয় কঙ্গো গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী, বিদ্রোহী এবং মিলিশিয়া দলের সংঘাতে বিধ্বস্ত। এসব গোষ্ঠী মূলত খনিজ সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই করছে।

ইতুরি প্রদেশে হেমা ও লেনদু সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সহিংস সংঘাত চলে আসছে। এই অঞ্চলটি বিশেষ করে স্বর্ণসমৃদ্ধ হিসেবে পরিচিত।

সাম্প্রতিক হামলা

নিরাপত্তা সূত্রের মতে, কোঅপারেটিভ ফর দ্য ডেভেলপমেন্ট অফ কঙ্গোর সঙ্গে যুক্ত যোদ্ধারা, যারা লেনদু সম্প্রদায়ের পক্ষে লড়াইয়ের দাবি করে, ২৮ এপ্রিল বিভিন্ন গ্রামে হামলা চালায়।

ধারণা করা হচ্ছে, এই হামলা কনভেনশন ফর দ্য পপুলার রেভোলিউশন (সিপিআর) গোষ্ঠীর কঙ্গোলীয় সেনাবাহিনীর ওপর হামলার প্রতিশোধ হিসেবে চালানো হয়েছে। সিপিআর হেমা সম্প্রদায়ের পক্ষে লড়াইয়ের দাবি করে।

সুশীল সমাজের নেত্রী দিউডোন লোসা জানান, কোডেকোর প্রতিশোধমূলক হামলায় ৭০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে অন্যান্য নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ১৯ জন বিদ্রোহী ও সৈন্যসহ মোট ৬৯ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি আরও জানান, বিদ্রোহীদের উপস্থিতির কারণে কয়েকদিন মৃতদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি এবং এখনো অনেক মরদেহ উদ্ধার বাকি রয়েছে। মানবিক সহায়তা সূত্র জানিয়েছে, বাসা গ্রামের আশপাশে বহু মৃতদেহ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল।

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন (মনুস্কো) বেসামরিক নাগরিকদের ওপর এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিদ্রোহীদের হাতে আটক প্রায় ২০০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

হেমা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ‘এন্তে’ এই ঘটনাকে গণহত্যা বলে অভিহিত করেছে এবং প্রতিশোধ না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ এই দেশটি দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতে জর্জরিত। থমাস লুবাঙ্গা দ্বারা প্রতিষ্ঠিত সিপিআর গোষ্ঠীটি ২০২৫ সালের শুরু থেকে পুনরায় সক্রিয় হয়েছে।

থমাস লুবাঙ্গা ২০১২ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) শিশু সৈন্য নিয়োগের জন্য দোষী সাব্যস্ত হন এবং ২০২০ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পান।

সিপিআর, সরকারি বাহিনী এবং কোডেকোর মধ্যে চলমান সংঘাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বেসামরিক জনগণ।

এছাড়া, আইএসআইএল-সংশ্লিষ্ট অ্যালাইড ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এডিএফ)-এর হামলাও এই অঞ্চলে অব্যাহত রয়েছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র উপদেষ্টা রুয়া রাজেহ বলেন, কঙ্গোর সেনাবাহিনী যখন এম২৩-এর মতো বড় গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ব্যস্ত, তখন অন্যান্য অঞ্চলে নিরাপত্তা শূন্যতা তৈরি হচ্ছে, যা বেসামরিক নাগরিকদের আরও ঝুঁকিতে ফেলছে।