উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মৌরিতানিয়ার উপকূলে অভিবাসীদের একটি নৌকা ডুবে অন্তত ৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় কোস্টগার্ড জানিয়েছে, আরও বহু যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন। সংবাদমাধ্যম বিবিসি শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।
কোস্টগার্ডের এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘মঙ্গলবার গভীর রাতে নৌকার যাত্রীরা উপকূলীয় একটি শহরের আলো দেখতে পান। তখন সবাই একপাশে সরে গেলে নৌকাটি উল্টে যায়।’
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ডুবে যাওয়া ওই কাঠের নৌকাটিতে আরও বহু যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে। স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের উদ্দেশে নৌকাটি যাচ্ছিল।
বেঁচে ফেরা যাত্রীরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার দুর্ঘটনার আগে নৌকাটি গাম্বিয়া থেকে ছেড়ে আসে। এতে প্রায় ১৬০ জন যাত্রী ছিলেন, যাদের বেশিরভাগই গাম্বিয়া ও সেনেগালের নাগরিক।
আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর ঝুঁকিপূর্ণ এ পথটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আফ্রিকার অভিবাসীদের জন্য ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। শুধু গত বছরেই প্রায় ৪৭ হাজার মানুষ ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছেছে। তবে স্প্যানিশ বেসরকারি সংস্থা কামিনান্দো ফ্রনটেরাসের হিসাব অনুযায়ী, একই সময়ে সমুদ্রপথে ইউরোপ যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে ৯ হাজারের বেশি অভিবাসী মারা গেছেন।
স্প্যানিশ সংবাদ সংস্থা ইএফই জানিয়েছে, নৌকাডুবির পর মৌরিতানিয়ার রাজধানী নুওকশত থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার উত্তরে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। উদ্ধারকর্মীরা ডুবে যাওয়া নৌকাটিতে তল্লাশি চালানোরও প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এর আগে সপ্তাহের শুরুতে মৌরিতানিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে আফ্রিকার অন্যান্য দেশ থেকে আসা অভিবাসীদের ওপর নিয়মিত নির্যাতনের অভিযোগ তোলে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও স্পেনের সঙ্গে হওয়া এক চুক্তির পর এ নির্যাতন আরও বেড়েছে, যার লক্ষ্য সমুদ্রপথে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে বিপজ্জনক অভিবাসন ঠেকানো।