রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, তার দেশ বিশ্বাস করে ইউক্রেন যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত মস্কোই জিতবে। নতুন বছর উপলক্ষে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে এ মন্তব্য করেন তিনি। ভাষণে রুশ সেনারা ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ইউক্রেনে কঠিন যুদ্ধে লিপ্ত আছে উল্লেখ করে রাশিয়ানদের তাদের সমর্থন করার কথা জানান তিনি।
একই সময়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, ‘যেকোনো মূল্যে’ শান্তি তারা চান না। এমনকি দুর্বল কোনো সমঝোতাও তারা মেনে নেবেন না। মূলত যুদ্ধ, শান্তিচেষ্টা ও হামলার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ—সব মিলিয়ে দুই দেশের উত্তেজনা আরও বাড়ছে।
প্রায় চার বছর আগে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার হামলা শুরু করেন পুতিন। তবে যুদ্ধের ফল এখনো অনিশ্চিত। কারণ একদিকে শান্তি আলোচনা চললেও অন্যদিকে তীব্র লড়াই অর্থাৎ একসঙ্গে দুটোই চলছে।
সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা বলছে, ২৬ বছর আগে বরিস ইয়েলৎসিনের নববর্ষের ভাষণের স্মৃতির প্রেক্ষাপটে পুতিনের এই ভাষণকে দেখা হচ্ছে। সেদিন বরিস ইয়েলৎসিন আকস্মিকভাবে পদত্যাগ করে ক্ষমতা তুলে দেন পুতিনের হাতে। এরপর থেকে দেশকে নিজের মতো করে বদলে নিয়েছেন পুতিন। কখনো তিনি স্তালিন যুগের ইতিবাচক দিকের কথা বলেছেন, আবার সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙার ‘অপমান’ কাটিয়ে ওঠার কথাও তুলে ধরেছেন।
তার শাসনে চেচনিয়ায় অভিযান, জর্জিয়া আক্রমণ, সিরিয়ার বাশার আল-আসাদ সরকারকে সহায়তা—সবকিছুই হয়েছে। এসব অভিযানে বেসামরিক মানুষের ওপরও তীব্র হামলার অভিযোগ রয়েছে। ইউরোপে আশঙ্কা—যুদ্ধ শেষ না হলে এটি ইউক্রেনের বাইরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
অন্যদিকে নববর্ষের ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, তারা শান্তি চান—কিন্তু দুর্বল কোনো চুক্তি নয়। তার ভাষায়, ‘আমরা যুদ্ধের শেষ চাই, কিন্তু ইউক্রেনের শেষ না’। তিনি বলেন, শান্তিচুক্তি ‘৯০ শতাংশ প্রস্তুত’, তবে বাকি ১০ শতাংশই সবকিছুর ভাগ্য নির্ধারণ করবে।
এর আগে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় একটি ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করে, ইউক্রেন পুতিনের নোভগোরোদ অঞ্চলের এক বাসভবনে হামলা চালাতে চেয়েছিল এবং একটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
তবে কিয়েভ এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে—এটি বানানো ঘটনা; বরং আক্রমণ বাড়ানোর অজুহাত খুঁজছে মস্কো। রাশিয়া বলছে, ৯১টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে, কেউ আহত হয়নি এবং পুতিনের বাসভবন অক্ষত আছে।
পুতিনের বাসভবনে হামলার এই দাবি নিয়ে উদ্বেগ জানায় সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভারত ও পাকিস্তান। তবে কিয়েভ বলেছে, যে ঘটনা ঘটেনি, তা নিয়ে তাদের মন্তব্য করা ঠিক হয়নি। পশ্চিমা মিত্ররাও রুশ দাবির বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। ইইউয়ের শীর্ষ কূটনীতিক কায়া কাল্লাস বলেন, রাশিয়া ‘অমূলক অভিযোগ তুলে’ শান্তি আলোচনাকে ব্যর্থ করে দিতে চাইছে।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন