কানাডায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিসহ বিশ্বজুড়ে পরিবারগুলোর জন্য বড় দুঃসংবাদ নিয়ে এলো ২০২৬ সাল। দেশটির সরকার তাদের বহুল প্রতীক্ষিত প্যারেন্টস অ্যান্ড গ্র্যান্ডপ্যারেন্টস প্রোগ্রাম (পিজিপি)-এর নতুন আবেদন গ্রহণ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে, কানাডার নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দারা তাদের বাবা-মা বা দাদা-দাদি/নানা-নানিকে আর স্থায়ীভাবে দেশটিতে নিয়ে যেতে পারবেন না।
এই সিদ্ধান্তের ফলে ইউরোপের ৩৮টিরও বেশি দেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের পরিবারগুলো চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
পিজিপি বন্ধ কেন?
কানাডার অভিবাসন, উদ্বাস্তু ও নাগরিকত্ব বিষয়ক দপ্তর (আইরসিসি) জানিয়েছে, বর্তমানে তাদের কাছে পিজিপি প্রোগ্রামের অধীনে ৪০ হাজারের বেশি আবেদন বিচারাধীন রয়েছে। এই পুরনো আবেদনগুলোর ব্যাকলগ বা জট কমাতেই নতুন আবেদন গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।
তারা কয়েকটি মূল কারণগুলো জানিয়েছে। তার মধ্যে-
আবেদন জট: অর্থাৎ পুরনো আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা।
অভিবাসন হ্রাস: কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর ঘোষণা অনুযায়ী, দেশটিতে অভিবাসীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমানো।
লক্ষ্যমাত্রা: ২০২৬ সালে কানাডা স্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা কমিয়ে মাত্র ৩৮০,০০০ জন নির্ধারণ করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪ শতাংশ কম।
একমাত্র ভরসা ‘সুপার ভিসা’
পিজিপি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবারের সাথে পুনর্মিলনের একমাত্র উপায় হিসেবে এখন সামনে এসেছে ‘সুপার ভিসা’। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী অস্থায়ী আবাসিক ভিসা।
সুপার ভিসার বৈশিষ্ট্য ও সুবিধা মধ্যে রয়েছে এই সুপার ভিসার মাধ্যমে বাবা-মা বা দাদা-দাদি একবার কানাডায় প্রবেশ করে টানা ৫ বছর পর্যন্ত অবস্থান করতে পারবেন। এছাড়াও ১০ বছরের বৈধতারয়েছে এই ভিসায়। এই ভিসাটি ১০ বছর মেয়াদী এবং মাল্টিপল এন্ট্রি (একাধিকবার প্রবেশের) সুবিধা প্রদান করে।
যদিও সুপার ভিসা দীর্ঘমেয়াদে থাকার সুযোগ দেয়, তবে এটি পাওয়ার প্রক্রিয়া আগের চেয়ে আরও কঠোর করা হয়েছে কয়েকটি কারণে
১. আর্থিক যোগ্যতা: কানাডায় অবস্থানরত সন্তান বা নাতি-নাতনিকে নির্দিষ্ট ন্যূনতম আয়ের প্রমাণ দেখাতে হবে।
২. স্বাস্থ্য বীমা: কানাডিয়ান কোনো বীমা কোম্পানি থেকে বাধ্যতামূলকভাবে অন্তত ১ বছরের স্বাস্থ্য বীমা (Medical Insurance) থাকতে হবে।
৩. প্রক্রিয়াকরণের সময়: এই ভিসার আবেদন যাচাই-বাছাইয়ে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পিজিপি বন্ধ হওয়ায় পরিবারগুলোকে এখন দীর্ঘমেয়াদী ভ্রমণের জন্য একমাত্র বিকল্প সুপার ভিসার ওপরই নির্ভর করতে হবে। তবে এটি স্থায়ী বসবাসের কোনো নিশ্চয়তা দেয় না।

