ঢাকা শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫

দুর্নীতির অভিযোগে নিজের চিফ অব স্টাফকে বরখাস্ত করলেন জেলেনস্কি

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: নভেম্বর ২৯, ২০২৫, ১২:৩৮ পিএম
জেলেনস্কি ও ইয়ারমাক। ছবি- সংগৃহীত

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির চিফ অব স্টাফ আন্দ্রি ইয়ারমাক পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) রাতে এ ঘোষণা দেন জেলেনস্কি। এর আগে দুর্নীতির অভিযোগে আন্দ্রি ইয়ারমাকের বাড়িতে তল্লাশি চালায় দেশটির দুর্নীতি বিরোধী দুটি সংস্থা।

ইয়ারমাককে এমন সময় অপসারণ করা হলো, যখন ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে একটি পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। তবে ইউক্রেনের আশঙ্কা, এটি বাস্তবায়িত হলে কিয়েভের তরফে রাশিয়াকে বড় ছাড় দিতে হতে পারে। যুদ্ধ বন্ধের প্রয়াসের মধ্যেও রাশিয়া পূর্ব ইউক্রেনে ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে।

এমন এক প্রেক্ষাপটে ইয়ারমাকের অপসারণ জেলেনস্কির জন্য একটি গুরুতর ধাক্কা। যুদ্ধের পুরো সময় ইয়ারমাক অবিচলভাবে জেলেনস্কির পাশে ছিলেন। প্রেসিডেন্টের প্রায় সব দাপ্তরিক ছবিতে তাঁদের একসঙ্গে দেখা যায়।

এ বিষয়ে অবগত এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেছেন, সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠেয় গুরুত্বপূর্ণ শান্তি আলোচনায় ইউক্রেনের পক্ষে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল ৫৪ বছর বয়সী ইয়ারমাকের। কিন্তু এখন সে পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছে। ইয়ারমাকের পরিবর্তে ইউক্রেনের নিরাপত্তা পরিষদের সেক্রেটারি রুস্তেম উমেরভ আলোচনায় নেতৃত্ব দেবেন বলে জানা যায়।

অভিযোগ রয়েছে,  ইয়ারমাক একটি কৌশলগত জ্বালানি খাতে ১০ কোটি ডলারের ঘুষ কেলেঙ্কারিতে জড়িত। চলতি মাসের শুরুর দিকে তদন্তকারীরা এ তথ্য উন্মোচন করেছিলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই ইউক্রেনীয় কর্মকর্তা বলেছেন, বিতর্কিত চিফ অব স্টাফ ইয়ারমাককে সরিয়ে দেওয়ার জন্য বিরোধী দলগুলোর ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে ছিলেন জেলেনস্কি। এরপরও গত সপ্তাহে তিনি ইয়ারমাককে ইউক্রেনের শীর্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে মনোনীত করেন।

তবে গতকাল জেলেনস্কি একটি ভিডিও বার্তায় ঘোষণা দেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় নতুন করে ঢেলে সাজানো হবে। কার্যালয়ের প্রধান আন্দ্রি ইয়ারমাক পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। এ ঘোষণার কিছুক্ষণ পরই জেলেনস্কি ইয়ারমাককে ‘বরখাস্ত করার’ একটি অধ্যাদেশে স্বাক্ষর করেন।

শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সকালে জাতীয় দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা (এনএবিইউ) এবং বিশেষায়িত দুর্নীতিবিরোধী প্রসিকিউটর অফিস (এসপিও) জানায়, তারা একটি তদন্তের অংশ হিসেবে ইয়ারমাকের বাসায় অভিযান চালিয়েছে। তবে তারা কোন অভিযোগের তদন্ত করছে, তা জানায়নি। ইয়ারমাক বলেছেন, তিনি দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাগুলোকে তদন্তে পুরোপুরি সহযোগিতা করছেন।

রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎ গ্রিডে হামলা চালাচ্ছে। এ কারণে অনেক এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে ইয়ারমাকের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ জনমনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।

জেলেনস্কি বলেছেন, শনিবার নতুন চিফ অব স্টাফ নিয়োগের বিষয়ে তিনি আলোচনা করবেন। এই কেলেঙ্কারির মুখে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।