ভারতের আসাম রাজ্যের হোজাইয়ে আজ শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে ঘটে ট্র্যাজেডি। সাইরাং-নয়াদিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেস ট্রেনের সঙ্গে একটি হাতির পালের সংঘর্ষে অন্তত আটটি হাতির মৃত্যু হয়। সংঘর্ষে ট্রেনের লোকোমোটিভ এবং পাঁচটি বগি লাইনচ্যুত হয়। তবে কোনো যাত্রী হতাহত হননি বলে জানিয়েছেন রেল কর্মকর্তারা।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থলেই প্রাপ্তবয়স্ক আটটি হাতির মৃত্যু হয়। আহত একটি বাছুরকে উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে রেলওয়ে কর্মকর্তারা উদ্ধারকাজে নামেন। দুর্ঘটনাস্থলটি গুয়াহাটি থেকে প্রায় ১২৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
লাইনচ্যুত বগি ও ট্র্যাকের ওপর হাতির দেহাবশেষ পড়ে থাকায় উচ্চ আসাম এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত কোচের যাত্রীদের অস্থায়ীভাবে অন্যান্য খালি বার্থে রাখা হয়। ট্রেনটি গুয়াহাটি পৌঁছানোর পর অতিরিক্ত কোচ সংযুক্ত করে যাত্রীদের পুনর্বাসন করা হবে এবং এরপর ট্রেনটি তার পরবর্তী যাত্রা শুরু করবে।
রেল ও বন কর্মকর্তারা জানান, সংঘর্ষটি কোনো ঘোষিত হাতির করিডোর এলাকায় হয়নি। লোকো পাইলট ট্র্যাকে হাতির পাল দেখতে পেয়ে জরুরি ব্রেক চাপেন। তবুও হাতিরা ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা খায়, যার ফলে সংঘর্ষ ঘটে এবং ট্রেন লাইনচ্যুত হয়।
দুর্ঘটনার পর গুয়াহাটি রেলওয়ে স্টেশন থেকে হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে—০৩৬১-২৭৩১৬২১, ০৩৬১-২৭৩১৬২২, ০৩৬১-২৭৩১৬২৩।
এর আগে গত ৩০ নভেম্বর পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার ধুপগুড়িতে ট্রেনের ধাক্কায় একটি প্রাপ্তবয়স্ক হাতির মৃত্যু হয়েছিল। সে সময় একটি বাছুর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল।
পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত পাঁচ বছরে দেশে ট্রেন সংঘর্ষে অন্তত ৭৯টি হাতির মৃত্যু হয়েছে। পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং জানিয়েছেন, ২০২০-২১ থেকে ২০২৪-২৫ পর্যন্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, হাতির আবাসস্থলে গতি সীমা নির্ধারণ, ভূকম্প সেন্সরভিত্তিক নজরদারি, আন্ডারপাস, র্যাম্প ও বেড়া নির্মাণসহ একাধিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রেলপথ এবং অন্যান্য প্রকল্প মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘর্ষ কমানোর জন্য পরিবেশবান্ধব নির্দেশিকাও জারি করা হয়েছে।
সরকারি জরিপ অনুযায়ী, ১৪টি রাজ্যের ৭৭টি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা কমানো যায়।
সূত্র: এনডিটিভি


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন