বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় জয় পেলে বিজেপিকে শূন্য করে দেওয়ার পাশাপাশি তাদের হাত থেকে দিল্লিও কেড়ে নেওয়া হবে—এমনই হুঁশিয়ারি দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) কলকাতার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে তৃণমূল কংগ্রেসের বুথ স্তরের কর্মীদের নিয়ে এক সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের (এসআইআর) নামে বিজেপি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র করছে।
তার দাবি, কার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাবে, তা নাকি বিজেপির পার্টি অফিসেই ঠিক করা হচ্ছে। তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দিকেও আঙুল তুলে বলেন, গোটা প্রক্রিয়াই কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণে চলছে এবং এর ফলে দেশ ধ্বংসের পথে এগোচ্ছে।
সংখ্যালঘু, আদিবাসী, তপশিলি, রাজবংশী, মতুয়াসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিজেপিকে ভোটের বাক্সে জবাব দিতে হবে।’
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এসআইআর একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া হলেও তা অস্বাভাবিক দ্রুততার সঙ্গে করা হচ্ছে। গোটা প্রক্রিয়াকে তিনি ‘ব্লান্ডার’ এবং ‘আনপ্ল্যানড’ বলে আখ্যা দেন।
তার অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন বিজেপির নির্দেশে কাজ করছে এবং এ পর্যন্ত ২২ থেকে ২৪ বার নির্দেশ বদলানো হয়েছে। এর ফলে সাধারণ ভোটাররা চরম হয়রানির মুখে পড়ছেন।
তিনি আরও বলেন, ভোটার তালিকায় বাংলা ও ইংরেজি বানানে ব্যাপক ভুল রয়েছে। কোথাও পদবি বদলে গেছে, কোথাও বিয়ের কারণে মহিলাদের নাম বাদ পড়েছে। এসব অনিয়মের জন্য নির্বাচন কমিশনকেও দায়ী করেন তিনি।
বিজেপির উদ্দেশে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে মমতা বলেন, ‘বাংলায় আপনারা লড়াই করুন। বাংলায় লড়াই করলে দিল্লি কেড়ে নেব। চাইলে আমার গলাও কেটে দিতে পারেন, কিন্তু আমি মানুষের কথাই বলব।’
তিনি আরও দাবি করেন, এসআইআর-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকা সংশোধন করলেও ভোটবাক্সে এর কোনো প্রভাব পড়বে না।
তার বক্তব্য, বিজেপি দেড় থেকে দুই কোটি নাম বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে, যা গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক।
মুখ্যমন্ত্রী দলীয় কর্মী, বিধায়ক ও কাউন্সিলরদের নির্দেশ দেন বাড়ি বাড়ি গিয়ে খতিয়ে দেখতে, যাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গেছে, তারা বাস্তবে রয়েছেন কি না। এমন কাউকে পাওয়া গেলে যাতে তারা সঠিক চ্যানেলে অভিযোগ জানাতে পারেন, সে ব্যবস্থাও করার নির্দেশ দেন তিনি।
উল্লেখ্য, এসআইআর-এর খসড়া তালিকায় পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৫৮ লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। যারা অসংগতির নোটিশ পেয়েছেন, তাদের পাশে দাঁড়াতে দলীয় নেতৃত্বকে নির্দেশ দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

-20251223140937.webp)
সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন