ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

‘আমার নির্বাচনি এলাকা থেকে ১০ জন নোবেল পুরস্কার পাবে’

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ৩১, ২০২৬, ০১:১০ পিএম
আসামের মুখ্যমন্ত্রী ও বদরুদ্দিন আজমল। ছবি : সংগৃহীত

ভারতের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বিতর্কিত ‘মিয়া’ মন্তব্যে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। সেখানকার মুসলমানদের এভাবে মিয়া বলে সম্বোধন ও ভোটার তালিকা সংশোধন প্রসঙ্গে তার বিতর্কিত মন্তব্যের বিরোধিতায় সরব হয়েছে কংগ্রেসসহ রাজ্যটির বিরোধী দলগুলো। 

কংগ্রেস বিধায়ক শেরমান আলি আহমেদ রাজ্যের মুসলিমদের উদ্দেশে বলেন, আমার প্রতিটি নির্বাচনি এলাকা থেকে ১০ জন নোবেল পুরস্কার পাবে। মুসলমানদের শপথ এটাই, ১৫ বছরের মধ্যে মিয়া কেবল আসাম নয়, সমগ্র বিশ্ব শাসন করবে।

আগামী দুই মাসের মধ্যেই আসামে বিধানসভা নির্বাচন। সেই নির্বাচনে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে এই নির্বাচনে বিজেপি হারবে বলেও ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন আসামের প্রধান সংখ্যালঘু মুসলিম প্রধান দল অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এআইইউডিএফ) প্রধান বদরুদ্দিন আজমল।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বদরুদ্দিন আজমল বলেন, এটা খুবই দুর্ভাগ্যের বিষয়। আমি হাতজোড় করে তাকে বলব, হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, দয়া করে আপনার কথা ফিরিয়ে নিন, নাহলে এবার আসামের মিয়া মানুষরা আপনার নৌকা ডুবিয়ে দেবে। ওরা কোনো কিছুতে ভয় পায় না। আপনি একটা সময় এই মিয়াদের ঘরে খেয়েছিলেন, এই মিয়াদের ঘরে আপনি মাংস খেয়েছিলেন, তখন খুব মজা পেয়েছিলেন। আজ, ক্ষমতার জন্য, আপনি মিয়া মুসলিমদের অপমান করছেন। এভাবে কোনো সম্প্রদায়কে অপমান করবেন না।

হিমন্তের মন্তব্যকে দরিদ্রবিরোধী হিসেবে উল্লেখ করেছে কংগ্রেস। রাজ্যটির কংগ্রেস মুখপাত্র জেহেরুল ইসলাম বলেন, একজন মিয়া রিকশাচালককে ৫ রুপির পরিবর্তে ৪ রুপি দিতে বলার মাধ্যমে, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা কোনো সম্প্রদায়কে অপমান করেননি। তিনি দরিদ্র এবং দুর্দশাগ্রস্তদের অপমান করেছেন, যারা বেঁচে থাকার জন্য রিকশা চালান।

কংগ্রেস বিধায়ক শেরমান আলি আহমেদ রাজ্যের মুসলিমদের উদ্দেশে বলেন, মুখ্যমন্ত্রী যা খুশি তাই বলুক। তার কথায় কান দেবেন না। মিয়াদের আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রাখা উচিত এবং তাদের কর্তব্য পালন করা উচিত। মিয়াদের শপথ নিতে হবে যে আগামী ১৫ বছরে প্রতিটি গ্রামে ১০০ জন আইএএস অফিসার, ১০০ জন বিচারক, এক হাজার ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার এবং বিজ্ঞানী থাকবে। আমার প্রতিটি নির্বাচনি এলাকা থেকে ১০ জন নোবেল পুরস্কার পাবে। মিয়াদের শপথ এটাই, ১৫ বছরের মধ্যে মিয়া কেবল আসাম নয়, সমগ্র বিশ্ব শাসন করবে।

মূলত আসামে বাংলাভাষী মুসলমানদের বোঝাতে ‘মিয়া’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। যদিও আগে এটি অপবাদ হিসেবেই ব্যবহৃত হতো। তবে এখন মুসলিমদের উদ্দেশে হামেশাই ‘মিয়া’ শব্দটি ব্যবহার করতে শোনা যায়।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার আসামের মুসলিম বাসিন্দাদের মিয়া আখ্যা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বলেছিলেন, এসআইআর বা ভোটার তালিকা সংশোধন সম্পন্ন হলে রাজ্যের ভোটার তালিকা থেকে চার থেকে পাঁচ লাখ মিয়া ভোটার বাদ দেওয়া হবে। এই ধরনের ভোটারদের আদর্শভাবে আসামে নয়; বরং বাংলাদেশে ভোট দেওয়ার অনুমতি দেওয়া উচিত। রাজ্য সরকার নিশ্চিত করছে যে, তারা রাজ্যে ভোট দিতে পারবে না।

তিনি বলেন, মিয়া সম্প্রদায়ের জন্য অসুবিধা তৈরি করা আমার দায়িত্ব। কংগ্রেসই মিয়াদের ডেকে এনে এই রাজ্যে আশ্রয় দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিজেপিকে এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। তাই কংগ্রেস যত ইচ্ছা আমাকে গালিগালাজ করুক। আমার কাজ হলো মিয়াদের কষ্ট দেওয়া। কোনো মিয়া রিকশাওয়ালা যদি ৫ রুপি চায়, তবে ৪ রুপি দিন। তারা যদি সমস্যার সম্মুখীন হয়, তবেই মিয়ারা আসাম ছেড়ে চলে যাবে। 

সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে