আর মাত্র কয়েকখানেক, এরপরই জানা যাবে কে হচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী। এবারের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের ইঙ্গিত বলছে, তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি ভেঙে ইতিহাস গড়ে ক্ষমতায় আসতে চলেছে বিজেপি।
বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে ২০১১ সালে প্রথমবার ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস। সেই বছরের মে মাস থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত টানা ১৫ বছর রাজ্যে শাসন করেছে দলটি। ২০১৬ ও ২০২১ সালেও বিপুল জয় পেয়ে সরকার গঠন করে তৃণমূল। তবে এবারের নির্বাচনে তাদের জনসমর্থনে ভাটা পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে, আর সেই সুযোগই কাজে লাগিয়েছে বিজেপি।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী, শমীক ভট্টাচার্য, অগ্নিমিত্রা পাল, দিলীপ ঘোষ, নিশীথ প্রামাণিক ও রূপা গঙ্গোপাধ্যায়।
তবে শেষ পর্যন্ত কে মুখ্যমন্ত্রী হবেন, তা নির্ধারণ করবে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্ষিক বেতন ছিল ২৫ লাখ ২০ হাজার টাকা। মাসিক বেতন ২ লাখ ১০ হাজার টাকা, যা সাপ্তাহিক হিসেবে প্রায় ৪৮ হাজার ৪৬১ টাকা ৫৪ পয়সা এবং দৈনিক হিসেবে ৯ হাজার ৬৯২ টাকা ৩১ পয়সা। তবে ২০১১ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি বেতন ও ভাতা না নেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন এবং প্রতীকী হিসেবে মাসে মাত্র ১ টাকা গ্রহণ করতেন। সংসদ হিসেবে প্রাপ্য পেনশনও তিনি নেননি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জেড-প্লাস ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পেতেন। কালীঘাটের নিজস্ব বাড়িতে থাকলেও মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নবান্ন বা সরকারি বাংলো ব্যবহারের সুবিধা ছিল। সরকারি গাড়ি ব্যবহার না করার ঘোষণা দিলেও, নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি বুলেটপ্রুফ গাড়ি ও কনভয়ের সুবিধা পেতেন। এ ছাড়া উন্নত চিকিৎসাসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক ও সরকারি সুযোগ-সুবিধাও তার প্রাপ্য ছিল।
ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের বেতন ভিন্ন ভিন্ন। সাধারণত মাসিক বেতন ১ লাখ ২৫ হাজার থেকে ৪ লাখ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি বর্তমানে সর্বোচ্চ বেতনভোগী, তিনি মাসে প্রায় ৪ লাখ ১০ টাকা পান।
এবার প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসতে চলেছে বিজেপি। তাই সবার নজর এখনকে হচ্ছেন রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী? নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একাধিকবার বলেছিলেন, একজন বাঙালিই মুখ্যমন্ত্রী হবেন, যা তৃণমূলের ‘বহিরাগত’ তত্ত্বের পাল্টা রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হয়।
সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রীদের তালিকা
শুভেন্দু অধিকারী
সব দিক বিবেচনায় তিনি এই দৌড়ে এগিয়ে। একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা ছিলেন তিনি, পরে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে বিজেপিতে যোগ দেন। ২০২১ সালের নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে আলোচনায় আসেন। বর্তমানে বিরোধী দলনেতা হিসেবে তিনি বিধানসভার ভেতরে ও বাইরে আক্রমণাত্মক ভূমিকা পালন করেছেন। সংগঠন শক্তিশালী করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
শমীক ভট্টাচার্য
আরএসএসের পুরোনো কর্মী এবং অটল বিহারী বাজপেয়ীর আদর্শে অনুপ্রাণিত। বিজেপি যখন রাজ্যে দুর্বল অবস্থায় ছিল, তখন থেকেই তিনি দলের সঙ্গে যুক্ত। ২০১৪ সালে বসিরহাট দক্ষিণ থেকে জিতে রাজ্যের প্রথম বিজেপি বিধায়ক হন। ‘ভদ্রলোক’ ভাবমূর্তির কারণে তিনি একটি গ্রহণযোগ্য মুখ হতে পারেন।
স্বপন দাশগুপ্ত
সাবেক সাংবাদিক এবং বিজেপির ঘনিষ্ঠ বুদ্ধিজীবী মুখ। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আস্থাভাজন হলেও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার অভাব তার ক্ষেত্রে একটি সীমাবদ্ধতা।
দিলীপ ঘোষ
বিজেপির সাবেক রাজ্য সভাপতি। তার নেতৃত্বেই রাজ্যে বিজেপির উত্থান ঘটে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে দলের ঐতিহাসিক সাফল্যের পেছনে তার বড় ভূমিকা ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা পিছিয়ে পড়লেও, আবার সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছেন।
সুকান্ত মজুমদার
সাবেক রাজ্য সভাপতি এবং বর্তমানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। উত্তরবঙ্গ থেকে কোনো মুখ বেছে নিতে চাইলে তিনি গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী হতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট মহল বলছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন