নির্বাচন ও তার ফলাফল দুটোই শেষ হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। বিজেপির কাছে দুইশোর বেশি আসনে হেরেছে মমতার তৃণমূল কংগ্রেস। তবে এমন পরাজয় মেনে নিতে রাজি নন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন, ‘এখনই পদত্যাগ করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। আমরা হারিনি, জোর করে ভোট লুট করা হয়েছে।’
মঙ্গলবার (০৫ মে) কালীঘাটের বাসভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি। জোর করে ভোট লুট করা হয়েছে। ইস্তফার প্রশ্ন আসছে কোথা থেকে?’
এদিকে বিদায়ী সরকারের মেয়াদ শেষ হবে আগামী ৭ মে। এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ না করলে কী হবে—তা নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনগত মহলে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।
সিনিয়র অ্যাডভোকেট শেখর নাফাদে এ বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে অস্বীকার করলেও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় কোনো পরিবর্তন আসবে না।
তার মতে, রাজ্যপাল বিধানসভা ভেঙে দিয়ে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন, কারণ সাবেক সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রীদের মেয়াদ কার্যত শেষ। তাই সংবিধান অনুযায়ী নিয়ম মেনেই নতুন সরকার গঠন প্রক্রিয়া এগোবে।’
আইনজীবীর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানালেও সংবিধান অনুসারে রাজ্যপাল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফলাফল ও জনাদেশ কার্যকর থাকবে, যতক্ষণ না আদালত থেকে ভিন্ন কোনো নির্দেশ আসে।
তার মতে, ফলাফল চ্যালেঞ্জ করার অধিকার থাকলেও, আদালতের স্থগিতাদেশ ছাড়া নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা কার্যকর থাকবে।
এর ফলে মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ না করলেও নতুন বিধানসভা গঠন ও নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণে কোনো আইনি বাধা থাকবে না। রাজ্যপাল চাইলে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে ছাড়াই নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন।
সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, মেয়াদ শেষ হওয়া বিধানসভার ক্ষেত্রে নতুন সরকার গঠন স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, এবং এতে সাবেক বা বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ বাধ্যতামূলক নয়।
উল্লেখ্য, বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ আগামী ৭ মে শেষ হচ্ছে।

