ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

কাজের চাপ মানুষকে সমকামী করে তুলতে পারে : মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৮, ২০২৬, ০২:২৩ পিএম
মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী ড. জুলকিফলি হাসান । ছবি : সংগৃহীত

কর্মক্ষেত্রের অতিরিক্ত চাপ মানুষকে সমকামী সম্পর্কের দিকে ঠেলে দিতে পারে- এমন মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন মালয়েশিয়ার ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী ড. জুলকিফলি হাসান। তার এই বক্তব্যকে ঘিরে দেশটিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) পার্লামেন্টে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন ড. জুলকিফলি। মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম ডেইলি এক্সপ্রেস মালয়েশিয়া ও এনএসটি অনলাইন এ তথ্য জানায়।

তিনি বলেন, কর্মক্ষেত্রের মানসিক চাপ, সামাজিক প্রভাব, যৌন অভিজ্ঞতা এবং ব্যক্তিগত বিভিন্ন কারণ মিলিতভাবে এমন যৌন প্রবণতা তৈরি করতে পারে, যা সম্পূর্ণভাবে বিষমকামী নয়।

তিনি ২০১৭ সালের একটি গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, এসব উপাদানের সংমিশ্রণ এলজিবিটি-সংক্রান্ত আচরণের বিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে।

ধর্মমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন সংসদ সদস্য জাইলাহ মোহামদ ইউসুফের এক প্রশ্নের উত্তরে। ওই প্রশ্নে মালয়েশিয়ায় এলজিবিটি সম্প্রদায়ের বর্তমান প্রবণতা, বয়সভিত্তিক বণ্টন, নৃতাত্ত্বিক সংমিশ্রণ এবং এর পেছনের মূল কারণ জানতে চাওয়া হয়।

ড. জুলকিফলি আরও বলেন, মালয়েশিয়ার সরকার এলজিবিটি জনগোষ্ঠীর সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান সংরক্ষণ করে না। তবে ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এলজিবিটি সংশ্লিষ্ট মোট ১৩৫টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে, এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মালয়েশিয়ার এলজিবিটি সম্প্রদায়ের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি ও চাপ বেড়েছে। দুই সপ্তাহ আগে ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ একটি ক্যাম্পিং রিট্রিটকে ‘এলজিবিটি জীবনধারা প্রচারের’ অভিযোগে তদন্ত শুরু করে, যা দেশটির এক সুলতান ও ইসলামপন্থি রাজনীতিবিদদের অভিযোগের ভিত্তিতে করা হয়।

ধর্মমন্ত্রীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষ ও মানবাধিকারকর্মীরা প্রশ্ন তুলেছেন- সরকার কি আদৌ বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ছাড়া এমন সংবেদনশীল বিষয়ে মন্তব্য করতে পারে? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই কটাক্ষ করে বলেছেন, ‘তারা কি সংসদে কখনো কঠোর পরিশ্রম করে না?’