গাজায় বাস্তুচ্যুত লক্ষাধিক ফিলিস্তিনির দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে শীতকালীন ঝড়-বৃষ্টি। ত্রাণ সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলছে, ইসরায়েলের বিধিনিষেধের কারণে অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডে জীবনরক্ষাকারী আশ্রয় সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার খবরে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, তাদের কাছে তাঁবু, কম্বলসহ জরুরি ত্রাণসামগ্রী গাজায় প্রবেশের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সীমান্ত পাড়ি দিয়ে এসব সহায়তা ঢুকতে বাধা দিচ্ছে বা কঠোরভাবে সীমিত করছে।
বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) উদ্ধারকর্মীরা জানান, গাজা শহরের শাতি শরণার্থী শিবিরে ঝড়ের সময় যুদ্ধবিধ্বস্ত এক পরিবারের বাড়ির ছাদ ধসে পড়ে। ধ্বংসস্তূপ থেকে দুই শিশুসহ ছয় ফিলিস্তিনিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
এর আগে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, মাত্র দুই সপ্তাহ বয়সি এক ফিলিস্তিনি শিশু ঠান্ডায় মারা গেছে। এতে পর্যাপ্ত আশ্রয় না থাকা শিশু ও বয়স্কদের ভয়াবহ ঝুঁকির বিষয়টি সামনে এসেছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র জানান, ঝড়ের কারণে গাজাজুড়ে আশ্রয়কেন্দ্র ও মানুষের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।
মহাসচিবের মুখপাত্র ফারহান হক বলেন, এই পরিস্থিতির প্রভাব গাজার প্রায় ৩০ হাজার শিশুর ওপর পড়েছে। গাজার ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স এক বিবৃতিতে বলেছে, গাজা উপত্যকায় আমরা এখন যা দেখছি, তা সত্যিকার অর্থেই একটি মানবিক বিপর্যয়।
গাজায় মানবিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার মধ্যেই কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন জাসিম আল থানি ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে গাজায় নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি স্থিতিশীল করার চেষ্টা নিয়ে তাদের আলোচনা হয়।
এদিকে যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও গাজায় সহিংসতা থামেনি। উপত্যকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গাজা শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১১ ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, গাজার তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’-এর কাছে ছোড়া একটি মর্টার শেল লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে।



