ইরানে চলমান সরকারবিবোধী বিক্ষোভে ৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এছাড়া আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সঙ্গে সহিংসতায় আহত হয়েছেন আরও হাজার হাজার মানুষ। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএর বরাত দিয়ে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।
বার্তা সংস্থাটি আরও জানায়, আট দিন বন্ধ থাকার পর ইরানে ‘খানিকটা’ ইন্টারনেট মিলছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।
এইচআরএএনএ বলেছে, তারা ইরানে তিন হাজার ৯০ জনের মৃত্যুর খবর যাচাই করে নিশ্চিত হতে পেরেছে। এদের মধ্যে দুই হাজার ৮৮৫ জনই বিক্ষোভকারী।
দেশটির বাসিন্দারা বলছেন, বিক্ষোভ আপাতত থেমেছে বলেই মনে হচ্ছে, রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলোর খবরে আরও অনেককে গ্রেপ্তারের কথা জানানো হয়েছে।
রয়টার্স তেহরানের যে কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছে তারা সবাই গত চারদিন ধরে রাজধানী তুলনামূলক শান্ত আছে বলে নিশ্চিত করেছে। শহরের ওপর দিয়ে ড্রোন উড়ছে ঠিকই কিন্তু বৃহস্পতি ও শুক্রবার তেহরানে কোনো বড় বিক্ষোভের চিহ্ন দেখা যায়নি, বলেছেন নিরাপত্তা শঙ্কায় নাম-পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই বাসিন্দারা।
কাস্পিয়ান সাগর তীরবর্তী উত্তরাঞ্চলীয় একটি শহরের সড়কগুলোও এখন শান্ত বলে সেখানকার এক বাসিন্দা জানিয়েছেন।
গত ২৮ ডিসেম্বর অর্থনৈতিক দুর্দশার ক্ষোভ থেকে উদ্ভূত বিক্ষোভ খুব দ্রুতই সরকার বিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীরা সরকারি ভবন, পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর কার্যালয় ও সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। বিক্ষোভ দমাতে ইরানের শাসকরাও এক পর্যায়ে মারাত্মক মারমুখী হয়ে ওঠে।
সরকারবিরোধী বিভিন্ন গোষ্ঠী এবং ইরানি এক কর্মকর্তা বিক্ষোভে দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন। একে ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর ইরানে হওয়া সবচেয়ে বড় অস্থিরতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আজ সকালে ইরানে ইন্টারনেট যোগাযোগ খুবই সামান্য পরিমাণ হচ্ছে বলে সেখান থেকে আসা উপাত্তে দেখা যাচ্ছে, ২০০ ঘণ্টা শাটডাউনের পর ইরানে ইন্টারনেট ফেরার খবর জানিয়ে এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেছে নেটব্লকস। তারা বলছে, সাধারণ পর্যায়ে এই ইন্টারনেট যোগাযোগের পরিমাণ মাত্র ২ শতাংশের মতো।
প্রবাসী ইরানিদের কয়েকজনও শনিবার সকাল থেকে ইরানের ভেতর থাকা বন্ধু-স্বজনদের বার্তা পাঠানো যাচ্ছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন।
সূত্র: রয়টার্স



