পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শন ও উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুতের হিসাব দেওয়া নিয়ে ইরানের সঙ্গে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তা অনন্তকাল চলতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের পারমাণবিক নজরদারি সংস্থা আইএইএ’র প্রধান রাফায়েল গ্রোসি। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমটাই জানিয়েছেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে গ্রোসি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনা, নাতাঞ্জ, ফোরদো ও ইসফাহান এখনো পরিদর্শন করতে পারেনি আইএইএ। তবে হামলার বাইরে থাকা ইরানের ঘোষিত ১৩টি পারমাণবিক স্থাপনা ইতোমধ্যে পরিদর্শন করা হয়েছে।
গ্রোসি আরও জানিয়েছেন, বোমা হামলার পর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ও উপাদানের অবস্থা জানানো জরুরি। এ জন্য ইরানকে আইএইএতে একটি বিশেষ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। ওই স্থাপনাগুলোতে প্রায় ৪৪০.৯ কেজি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা অস্ত্র তৈরির কাছাকাছি মাত্রার।
আইএইএর মানদণ্ড অনুযায়ী, এই পরিমাণ ইউরেনিয়াম আরও সমৃদ্ধ করা হলে তা দিয়ে প্রায় ১০টি পারমাণবিক বোমা তৈরি করা সম্ভব। তবে এখন পর্যন্ত ওই বিশেষ প্রতিবেদনটি আইএইএতে জমা দেয়নি ইরান।
তিনি আরও বলেছেন, এ অবস্থা অনির্দিষ্টকাল চলতে পারে না। একসময় তাকে স্বীকার করতেই হতে পারে যে, পারমাণবিক উপাদানগুলো কোথায় আছে, তা তিনি জানেন না। এমন পরিস্থিতিতে এসব উপাদান অন্য কোথাও সরানো বা গোপন করা হয়নি, এমন নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব হবে না। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, এই মুহূর্তে কোনো ধরনের সিদ্ধান্তে পৌঁছাইনি। কিন্তু আমরা ইরানকে বলছি, তাদের আলোচনায় বসতেই হবে।
গ্রোসি আরও জানিয়েছেন, , তিনি কূটনৈতিক সতর্কতা বজায় রেখে পরিস্থিতি সামলাচ্ছেন। তবে পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) সদস্য হিসেবে ইরানকে তার বাধ্যবাধকতা অবশ্যই মানতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এভাবে দীর্ঘদিন চলতে পারে না এবং প্রয়োজনে তাকে ঘোষণা করতে হতে পারে যে, ইরান চুক্তি লঙ্ঘন করছে।
গ্রোসি জোর দিয়ে বলেছেন, এনপিটি সদস্য দেশগুলোর জন্য ইচ্ছামতো শর্ত বেছে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই, কোনটি মানবে আর কোনটি মানবে না, তা ঠিক করার অধিকার তাদের নেই।
রয়টার্সের সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে, ডিসেম্বরের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে গ্রোসি বলেছেন, এটি একটি যুক্তিসংগত সময়সীমা।
গ্রোসি আরও বলেছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতার জন্য মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের নেতৃত্বে যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে, তা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশা করেন, এই উদ্যোগ সফল হবে এবং নতুন কোনো সামরিক সংঘাত এড়ানো যাবে।
আইএইএ জানিয়েছে, নভেম্বর মাসে তারা এমন অধিকাংশ পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শন করেছে, যেগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। গ্রোসি বলেছেন, ডিসেম্বরের শেষ দিক পর্যন্ত আরও কয়েকটি পরিদর্শন করা হয়। তবে সম্প্রতি দেশজুড়ে বিক্ষোভের কারণে কিছু সময় পরিদর্শন করা সম্ভব হয়নি। এসব বিক্ষোভ কঠোরভাবে দমন করা হয় বলেও তিনি জানিয়েছেন। ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, বর্তমানে সেই অস্থিরতা থেমে গেছে।
তেহরান দাবি করেছে, আইএইএ’র সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করেছে ইরান।

