ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

প্রকাশ্যে এলেন খামেনি

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ৩১, ২০২৬, ১০:৪৮ পিএম
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ছবি - সংগৃহীত

দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহ লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকার পর প্রকাশ্যে এলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। শনিবার তেহরানের উপকণ্ঠে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মাজারে প্রার্থনায় অংশ নেন তিনি।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের ৪৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তার এই উপস্থিতি দেশটিতে চলমান অস্থিরতার মধ্যে স্থিতিশীলতার বার্তা দেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সম্প্রতি ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলার আশঙ্কার মুখে খামেনি ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে আশ্রয় নিয়েছেন বলে বিরোধীরা যে দাবি করেছিল, এই ছবিগুলো সেই জল্পনা নাকচ করার লক্ষ্যেই প্রকাশ করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

একই দিনে ইরানের সেনাবাহিনী প্রধান আমির হাতামি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, তাদের সামরিক বাহিনী বর্তমানে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। 

পারস্য উপসাগরে ওয়াশিংটনের ব্যাপক সামরিক উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শত্রুপক্ষ যদি কোনো ভুল করে তবে তা কেবল তাদের নিজেদের নয়, বরং পুরো অঞ্চল এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। হাতামি বলেন, ইরানের পরমাণু প্রযুক্তি ধ্বংস করা সম্ভব নয়। এমনকি শীর্ষ বিজ্ঞানীদের হত্যা করেও এই সক্ষমতাকে মুছে ফেলা যাবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরীসহ একটি নৌ-স্ট্রাইক গ্রুপ মোতায়েন করার পর অঞ্চলটিতে উত্তেজনা তুঙ্গে। 

গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ পরবর্তীতে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। যদিও বর্তমানে বিক্ষোভ অনেকটাই স্তিমিত হয়ে এসেছে, তবে এর ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে দুই পক্ষ ভিন্ন দাবি করেছে। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ নিহতের সংখ্যা ৩,১১৭ জন বললেও বিরোধী সূত্রগুলো দাবি করেছে যে এই প্রাণহানি ৩৬ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।