ইসরায়েল বর্তমানে অন্তত ৭৬৬ জন চিহ্নিত ফিলিস্তিনির মৃতদেহ নিজেদের দখলে রেখেছে। ইসরায়েলি দৈনিক হারেটজের বরাতে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে কমপক্ষে ৩৭৩টি মৃতদেহ ইসরায়েলি বাহিনীর হেফাজতে এসেছে বা জব্দ করা হয়েছে। হামাস সব ইসরায়েলি বন্দির মৃতদেহ ফেরত দিলেও ফিলিস্তিনিদের মৃতদেহ এখনো ফিরিয়ে দেয়নি ইসরায়েল।
আটকে রাখা মৃতদেহগুলোর প্রায় অর্ধেকই ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর নিহত বা আটক অবস্থায় মারা গেছেন। অধিকাংশ ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে নিহত হন। এদের মধ্যে গত দুই বছরে ইসরায়েলি হেফাজতে মারা যাওয়া অন্তত ৮৮ জন বন্দি রয়েছে, যাদের মধ্যে গাজার ৫৩ জন, অধিকৃত পশ্চিম তীরের ৩২ জন এবং ইসরায়েলের তিন জন ফিলিস্তিনি নাগরিক।
হারেটজ জানিয়েছে, ৭ অক্টোবরের হামলার পর ইসরায়েলি বাহিনী সরাসরি ৩৭৩টি মৃতদেহ জব্দ করেছে বা সেগুলো তাদের দখলে এসেছে। ইসরায়েলি হেফাজতে মারা যাওয়া অধিকাংশ বন্দিকে কোনো অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই আটক রাখা হয়েছিল। তাদের মৃত্যুর জন্য ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সহিংসতা ও অমানবিক আটক পরিস্থিতিকে দায়ী করা হয়েছে।
জেরুজালেম লিগ্যাল এইড অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস সেন্টার (জেএলএসি) জানিয়েছে, গাজায় চলমান যুদ্ধের আগেও নিহত আরও সাত জন বন্দির মৃতদেহ ইসরায়েল সংরক্ষণ করে রেখেছে।
সংস্থাটির মতে, ১৯৬৭ সাল ও তার পরবর্তী সময়ে নিহত ফিলিস্তিনিদের কতজনের মৃতদেহ ইসরায়েল আটকে রেখেছে, তার নির্দিষ্ট হিসাব নেই।
শনাক্তকৃত মৃতদেহগুলোর মধ্যে ৫২০টি সামরিক স্থাপনায় অবস্থিত মর্গে রাখা হয়েছে। বাকি প্রায় ২৫৬টি মৃতদেহ তথাকথিত ‘সংখ্যার কবরস্থানে’ দাফন করা হয়েছে, যেখানে কবরগুলো কেবল সংখ্যাসূচক চিহ্ন দিয়ে শনাক্ত করা হয়। এসব কবরস্থানে ফিলিস্তিনি ও অন্যান্য আরবদের দাফন করা হয়েছে, যার কিছু কবর ১৯৪৮ সালেরও পুরোনো।
এ ছাড়া শনাক্তকৃত ১০ জন বিদেশি নাগরিকের মৃতদেহও ইসরায়েল আটকে রেখেছে। বহু বছর ধরেই ফিলিস্তিনিদের মৃতদেহ গোপন রাখার নীতি অনুসরণ করে আসছে ইসরায়েল, যা অধিকৃত পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকায় নিয়মিতভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
অক্টোবর মাসে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে বন্দি বিনিময় ও যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর বহু পরিবার তাদের স্বজনদের মৃতদেহ ফেরত পাওয়ার আশা করেছিলেন। তবে চুক্তির আওতায় ইসরায়েল মাত্র ৩৬০টি মৃতদেহ গাজায় ফিরিয়ে দেয়। জেএলএসি জানিয়েছে, এর মধ্যে প্রায় ১০০টির পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে, বাকিগুলো অজ্ঞাত হিসেবে দাফন করা হয়েছে।
এদিকে মিডল ইস্ট আই-এর সঙ্গে কথা বলে একাধিক সূত্র থেকে জানতে পেরেছে, ফেরত দেওয়া বহু মৃতদেহে নির্যাতন, মৃত্যুদণ্ড এবং ট্যাঙ্ক দ্বারা চাপা দেওয়ার চিহ্ন পাওয়া গেছে। অনেক মৃতদেহে শ্বাসরোধের দাগ, ভাঙা হাড়, অঙ্গচ্ছেদ এবং হাত-পা ও চোখ বাঁধা থাকার প্রমাণ মিলেছে। কিছু মৃতদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অনুপস্থিত ছিল।
বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ফিলিস্তিনিদের মৃতদেহ আটকে রাখার ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের নীতির তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে মৃতদেহগুলো পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। যদিও ইসরায়েলি আইনে মৃতদেহ আটকে রাখার অনুমতি রয়েছে, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী মৃতদের মর্যাদার সঙ্গে দাফন ও কবর সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক।
সূত্র : মিডল ইস্ট আই

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন