ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের বৈঠক আজ, ‘পরোক্ষভাবে’ থাকবেন ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬, ০৯:১০ এএম
আরাগচি ও গ্রোসি। ছবি : সংগৃহীত

পরমাণু ইস্যুতে ওয়াশিংটন-তেহরানের দ্বিতীয় দফার বৈঠকে যোগ দিতে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুই দেশের প্রতিনিধির মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। উচ্চ পর্যায়ের এই বৈঠকে পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ইরানের পরমাণু ইস্যু নিয়ে ওমানের মধ্যস্থতায় প্রথম দফার বৈঠকে ৬০ শতাংশ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কমানোর প্রতিশ্রুতি দেয় তেহরান। কয়েকদিনের মাথায় সোমবার দ্বিতীয় দফার বৈঠকে যোগ দিতে জেনেভায় পৌঁছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

তবে এবার ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক চুক্তির জন্য বাস্তব প্রস্তাব নিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছেন আরাগচি। এই বৈঠকের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে থাকবেন ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদি।
 
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আলোচনায় বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ আছে, তবে চুক্তি করা কঠিন হবে।
 
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে জেনেভায় মঙ্গলবার অনুষ্ঠিতব্য গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় তিনি ‘পরোক্ষভাবে’ যুক্ত থাকবেন। তিনি আরও বলেন, তার বিশ্বাস ইরান একটি চুক্তি করতে চায়।
 
এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ওই আলোচনায় পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকব এবং সেগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ হবে।’
 
বৈঠকের আগে ইরান জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা শিথিল না হলে কোনো সমঝোতা হবে না। তাদের দাবি, সমঝোতা হলে তা হতে হবে দেওয়া-নেওয়ার ভিত্তিতে। শূন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের দাবি তারা মানবে না।
 
এদিকে সোমবার আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা আইএইএর প্রধান রাফায়েল গ্রোসির সঙ্গে দেখা করেন আরাগচি। এ সময়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনায় প্রবেশাধিকার চায় আইএইএ।
 
যদিও তেহরান জানায়, বিকিরণের ঝুঁকি থাকায় নির্দিষ্ট প্রটোকল মেনে পরিদর্শন করতে হবে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের অবস্থান এখন কিছুটা বাস্তবধর্মী হয়েছে। তবে আইএইএ হামলার নিন্দা না করায় তেহরান অসন্তোষ জানিয়েছে।
 
একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে নৌ মহড়া শুরু করেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস, আইআরজিসি। মহড়ার নাম দেওয়া হয়েছে স্মার্ট কন্ট্রোল অব দ্য স্ট্রেইট অব হরমুজ। মহড়াটি তদারকি করেন কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর।
 
অন্যদিকে ওমান উপকূলে অবস্থান করছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানো হয়েছে আরেকটি রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড। এমনকি ইরান সতর্ক করে বলেছে, হুমকি এলে তারা অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাবে।