× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

বিশ্ব ডেস্ক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬, ১০:১০ এএম

‘অগ্রগতি’ হলেও ফলাফল ছাড়াই শেষ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা

বিশ্ব ডেস্ক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬, ১০:১০ এএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান অগ্রগতি অর্জন করেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত এই আলোচনার মধ্যস্থতাকারী ওমান এই তথ্য জানিয়েছে। তবে দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার আলোচনা কোনো সুনির্দিষ্ট ব্রেকথ্রু বা বড় ধরনের সাফল্য ছাড়াই শেষ হয়েছে, যা ব্যাপক সামরিক প্রস্তুতির মধ্যে সম্ভাব্য মার্কিন হামলা এড়াতে সহায়ক হতে পারত।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ বদর আলবুসাইদি সুইজারল্যান্ডে দিনের বৈঠক শেষে এক্সে এক পোস্টে জানান, দুই পক্ষই নিজ নিজ দেশের রাজধানীতে কনসালটেশন বা পরামর্শের পর শিগগির আলোচনা পুনরায় শুরু করার পরিকল্পনা করছে। এ ছাড়া আগামী সপ্তাহে ভিয়েনায় প্রযুক্তিগত পর্যায়ের আলোচনার সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।

দীর্ঘদিনের শত্রু ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে অধরা কোনো চুক্তির দিকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলে তা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ইরান আক্রমণের হুমকি হ্রাস করতে পারে। অনেকে আশঙ্কা করছেন, দুই দেশের মধ্যে যেকোনো সংঘাত বৃহত্তর যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। কিন্তু বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া পরোক্ষ আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ায় অঞ্চলটি এখনো উত্তজনাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

ওমানি মন্ত্রীর এই আশাবাদী মূল্যায়নটি জেনেভায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনার পর সামনে আসে। বৃহস্পতিবার সকালে এবং বিকেলে দুটি সেশন অনুষ্ঠিত হয়। পরে বদর আল-বুসাইদি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে আলোচনার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির মধ্য দিয়ে আমরা দিনটি শেষ করেছি।’

তবে অনেক বিশ্লেষক যেখানে এই সর্বশেষ কূটনীতিকে ট্রাম্পের যুদ্ধ ঘোষণার আগে শেষ সুযোগ হিসেবে দেখছেন, সেখানে আল-বুসাইদি বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি এবং চুক্তির পথে সবচেয়ে বড় বাধাগুলো দুই পক্ষ কাটিয়ে উঠতে পেরেছে কি না সে বিষয়েও কিছু বলেননি।

ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই আলোচনাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের হওয়া অন্যতম গুরুতর আলোচনা হিসেবে বর্ণনা করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘আমরা কিছু বিষয়ে চুক্তিতে পৌঁছেছি, আর কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সিদ্ধান্ত হয়েছে যে আলোচনার পরবর্তী রাউন্ড শিগগির, এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে।’ তিনি জানান, ইরানিরা স্পষ্টভাবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে, যা নিয়ে ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে জেদ ধরে আছে যে তেহরানকে আগে বড় ধরনের ছাড় দিতে হবে।

আলোচনার ফলাফল নিয়ে মার্কিন প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এক ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, জেনেভা আলোচনা ‘ইতিবাচক’ ছিল।

বৃহস্পতিবার রয়টার্সকে এক ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তা বলেছিলেন, ওয়াশিংটন যদি ‘পারমাণবিক এবং অপারমাণবিক ইস্যুগুলোকে’ আলাদা করে দেখে তবে দুই পক্ষ একটি চুক্তির রূপরেখায় পৌঁছাতে পারে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন জেদ ধরে আছে, ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রোগ্রাম এবং এই অঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি তাদের সমর্থন অবশ্যই আলোচনার অংশ হতে হবে।

সকালের সেশনের পর বদর আল-বুসাইদি বলেছিলেন, দুই পক্ষ ‘সৃজনশীল এবং ইতিবাচক ধারণা’ বিনিময় করেছে। তবে এক ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তা সেই সময়ে বলেছিলেন, কিছু ব্যবধান এখনো কমিয়ে আনা বাকি। ওয়াশিংটন বিশ্বাস করে তেহরান পারমাণবিক বোমা তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে চায়। তাই তারা চায় ইরান সব ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করুক। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি তৈরি করে, তবে এটি দিয়ে ওয়ারহেড বা পারমাণবিক অস্ত্রও তৈরি করা সম্ভব।

ইরান দীর্ঘকাল ধরে বোমা তৈরির ইচ্ছা অস্বীকার করে আসছে এবং বৃহস্পতিবারের শুরুতে বলেছে যে তারা আলোচনায় নমনীয়তা দেখাবে। রয়টার্স রোববার রিপোর্ট করেছিল, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকারের স্বীকৃতির বিনিময়ে তেহরান অনির্ধারিত কিছু নতুন ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বুধবার বলেছেন, ইরানের তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রোগ্রাম নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করা একটি ‘বড় সমস্যা’ যা শেষ পর্যন্ত সমাধান করতে হবে। তিনি দাবি করেন, এই মিসাইলগুলো ‘শুধু আমেরিকাকে আঘাত করার জন্য তৈরি করা হয়েছে’ এবং এগুলো আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড লক্ষ্যবস্তু হতে পারে এমন দাবির স্বপক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দেননি।

১৯ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানকে ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে একটি চুক্তি করতে হবে, অন্যথায় ‘সত্যিই খারাপ কিছু’ ঘটবে। গতকাল বৃহস্পতিবার স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে তিনি ইরানের ওপর সম্ভাব্য আক্রমণের সপক্ষে সংক্ষিপ্ত যুক্তি তুলে ধরেন এবং জোর দিয়ে বলেন, তিনি কূটনৈতিক সমাধান পছন্দ করলেও তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেবেন না।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!