ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি জীবিত না মৃত?

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: মার্চ ৩, ২০২৬, ০৬:৪৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র জল্পনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে মার্কিন-ইসরাইলি বিমান হামলায় তার মৃত্যুর খবর দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলো নিশ্চিত করেছে। তবে এর মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ‘জীবিত’ থাকার দাবি করে কিছু ছবি ভাইরাল হয়েছে।

তবে, অনুসন্ধানে দেখা গেছে, খামেনির সাহারা মরুভূমিতে অবস্থানের দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। 

সম্প্রতি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে দাবি করা হচ্ছে যে, আয়াতুল্লাহ খামেনি বর্তমানে সাহারা মরুভূমিতে অবস্থান করছেন এবং তিনি জীবিত আছেন।

এ বিষয়ে ফ্যাক্ট চেক বা তথ্য যাচাইয়ে দেখা গেছে, ওই ছবিটি বর্তমান সময়ের নয়; এটি ২০১৪ সালের একটি পুরোনো ছবি। বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে এই ছবির কোনো সম্পর্ক নেই। কোনো নির্ভরযোগ্য ভিডিও বা প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণও এই দাবির সপক্ষে পাওয়া যায়নি। ফলে বিশেষজ্ঞরা এটিকে নিছক ‘অপপ্রচার’ বা 'মিসইনফরমেশন' হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

ইরানের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া ও শোক ঘোষণা : ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন 'প্রেস টিভি' খামেনিকে 'শহীদ' হিসেবে অভিহিত করে তার মৃত্যুর খবর প্রচার করেছে এবং এই অপূরণীয় ক্ষতিতে দেশে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। শিয়া রীতি অনুযায়ী শোক পালনের অংশ হিসেবে তেহরানের রাস্তায় মানুষের ঢল নেমেছে এবং সারা দেশে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। 

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, খামেনিকে লক্ষ্য করে চালানো এই হামলা কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না; বরং এটি ছিল ওয়াশিংটন ও জেরুজালেমের কয়েক মাসের যৌথ গোয়েন্দা তৎপরতার ফল। স্যাটেলাইট ডাটা ও সাইবার নজরদারির মানব সূত্রের সমন্বয়ে তেহরানের একটি সুরক্ষিত ঘাঁটিতে এই অভিযান চালানো হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানকে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হিসেবে বর্ণনা করে ইরান পাল্টা পদক্ষেপ নিলে আরও বড় সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

খামেনির মৃত্যুর খবরের ১২ ঘণ্টার মধ্যে ইন্টারনেটে আড়াই কোটিরও বেশি মানুষ এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৩.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। 

ভবিষ্যৎ ও উত্তরাধিকার: ১৯৮৯ সাল থেকে দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ইরান শাসন করা এই নেতার বিদায়ে দেশটির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, এখন ‘অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস’ বা বিশেষজ্ঞ পরিষদ তার উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করবে। তবে কঠোর নিয়ন্ত্রণের কারণে স্বতন্ত্র কোনো ফরেনসিক বা আন্তর্জাতিক যাচাইকরণের অভাব সাধারণ ইরানিদের মধ্যে এখনো এক ধরণের অনিশ্চয়তা জিইয়ে রেখেছে।