ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় ইরান তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। জেরুজালেম, মধ্য ও দক্ষিণ ইসরায়েলের একাধিক স্থানে সতর্ক সংকেত জারি করা হয়। সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় এসব অঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ।
দেশটির বিভিন্ন এলাকা থেকে বিস্ফোরণের খবর এসেছে। ধারণা করা হচ্ছে, হামলায় গুচ্ছ-বোমা ব্যবহার করা হয়েছে, যা বিস্ফোরণের পর ছোট ছোট বোমায় ছড়িয়ে পড়ে। অন্তত আটটি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ বা বিস্ফোরক পড়ে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
এর আগে উত্তরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি এলাকায় সতর্ক সাইরেন বাজানো হলেও পরে তা তুলে নেওয়া হয় এবং সেখানকার মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।
গত রোববার থেকে হামলার এই ধারা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে উত্তর ইসরায়েল এখন শুধু ইরানের হামলার নয়, বরং হিজবুল্লাহর আক্রমণেরও নিয়মিত লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে।
তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পরও ইসরায়েলের অভ্যন্তরে পাল্টা হামলা চালিয়ে ক্ষতি করার সক্ষমতা যে এখনো আছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তা জানান দিল ইরান। শনিবার রাতে ইসরায়েলের পারমাণবিক স্থাপনার নিকটবর্তী দুটি শহরে হামলা চালায় ইরান।
এসব হামলায় অন্তত ১৬০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। হামলার শিকার শহর দুটি হলো আরাদ ও দিমোনা। জানা গেছে, ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলার ঘটনায় আরাদে ৮৪ জন এবং দিমোনায় আরও ৭৮ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আরাদ শহর পরিদর্শন করে এই হামলায় কেউ নিহত না হওয়াকে ‘মিরাকল’ বা অলৌকিক ঘটনা বলে বর্ণনা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
নিহত হওয়ার ঘটনা না থাকলেও ইসরায়েলি জনগণকে ‘আত্মতুষ্টিতে’ না ভোগার আহ্বান জানিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্ক সংকেত বাজার সময় আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যেতে হবে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, সতর্কবার্তা পাওয়ার পর থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি পড়ার আগ পর্যন্ত পুরো দশ মিনিট সময় ছিল। যদি ওই কয়েক মিনিটের মধ্যে সবাই সুরক্ষিত জায়গায় অর্থাৎ, ভবনের নিচে থাকা আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যেত তাহলে কেউই আহত হতো না।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা- আইএইএ জানিয়েছে, এই হামলায় দিমোনার প্রায় ১৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্রের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কী-না, সে বিষয়ে তারা অবগত নন।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন