ইরানে সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো এখন প্রতিদিনের খাবারের জন্য কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। তেহরানের বাজারে এক কেজি চালের দাম বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৬১০ থেকে ৭৫০ টাকা। ডালের দাম তিনগুণ বেড়ে গেছে। মাংস এখন মূলত ধনীদের থালায় সীমিত।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ হামলার আগেই ইরানের অর্থনীতি সংকটে ভুগছিল। কয়েক বছর ধরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, মুদ্রার পতন এবং সরকারি অব্যবস্থাপনা দেশটির অর্থনীতিকে ধুঁকাচ্ছিল।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরেই ইরানে খুচরো খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি বছরে ৪২ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন, বাস্তব সংখ্যা আরও বেশি—৫৮ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত। হামলার পর খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি ১০৫ শতাংশে পৌঁছেছে।
ইরানের উত্তরের গিলান প্রদেশের নিজস্ব চাল এখন তেহরানের নাগালের বাইরে। বছরের আগের দাম ছিল প্রায় ১২ লাখ রিয়াল (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫০০ টাকা)। এখন দাম দাঁড়িয়েছে ৩৫–৪০ লাখ রিয়াল, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৪০০, ১ হাজার ৬০০ টাকা প্রতি কেজি।
ফরহাদ (৩৮), তেহরানের বাসিন্দা বলেন, গত বছর এই চাল কিনতাম ৫০০ টাকায়, এখন দাম বেড়ে গেছে ১ হাজার ৫০০ টাকার বেশি।
একইভাবে সবুজ মসুর ডাল এবং ভোজ্যতেলের দাম তিনগুণ বেড়ে গেছে। লেবুর দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ২৭২ শতাংশ, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩২০ টাকা প্রতি কেজি। রুটি ও অন্যান্য শস্যের দাম প্রায় দ্বিগুণ।
ইরানি রিয়ালের ভয়াবহ ধস দেশের ক্রমবর্ধমান খাদ্যসংকটকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। ২০১৫ সালে এক ডলার ছিল ৩২ হাজার রিয়াল। এখন খোলা বাজারে এক ডলার কিনতে লাগে ১৫–১৭ লাখ রিয়াল। অর্থাৎ দশ বছরে মুদ্রার মান প্রায় ৫০ শতাংশ কমেছে।
২০২৫ সালের শেষ থেকে ২০২৬ সালের শুরু পর্যন্ত ইরানের ৩১টি প্রদেশে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এসব বিক্ষোভ বাজারদার ও ব্যবসায়ীদের নেতৃত্বে হয়েছে।
এদিকে ইরান-আমেরিকার যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশের বেশি সার রপ্তানি প্রায় বন্ধ। ইউরিয়া সার ও ফসফেটের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
সূত্র : ইরান ইন্টারন্যাশনাল

