× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

বিশ্ব ডেস্ক

প্রকাশিত: এপ্রিল ১, ২০২৬, ১০:৪৮ এএম

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তান ও চীনের ৫ দফা প্রস্তাব

বিশ্ব ডেস্ক

প্রকাশিত: এপ্রিল ১, ২০২৬, ১০:৪৮ এএম

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। ছবি : সংগৃহীত

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে একটি যৌথ প্রস্তাব প্রকাশ করেছে পাকিস্তান ও চীন। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বেইজিং সফরে গিয়ে দেশটির শান্তি প্রচেষ্টায় চীনের সমর্থন চাওয়ার পর এই প্রস্তাব ঘোষণা করা হয়।

বেইজিং সফরে ইসহাক দার চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনের লক্ষ্যেই পাকিস্তানের এই দৌড়ঝাঁপ। 

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসহাক দারের চীন সফরের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানে চলমান সংঘাত নিরসনে চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে সহযোগিতা আরও ‘শক্তিশালী’ করা এবং ‘শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নতুন করে প্রচেষ্টা’ চালানো।

মঙ্গলবার বৈঠকের পর এক যৌথ বিবৃতিতে পাকিস্তান ও চীন অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে দেশ দুটি অবরুদ্ধ প্রণালিসহ সব নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পাঁচ দফার একটি প্রস্তাব প্রকাশ করেছে।

কী আছে পাঁচ দফায় : 

১. অবিলম্বে শত্রুতা অবসান : চীন ও পাকিস্তান অবিলম্বে সব ধরনের শত্রুতা ও সামরিক তৎপরতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। সংঘাত যাতে নতুন কোনো অঞ্চলে ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য সর্বোচ্চ ধৈর্য ধরার অনুরোধ করা হয়েছে। একইসঙ্গে যুদ্ধকবলিত সব এলাকায় অবিলম্বে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর নিশ্চয়তা দাবি করা হয়েছে।

২. দ্রুত শান্তি আলোচনা শুরু: ইরানসহ পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। আলোচনার সময় কোনো পক্ষ যাতে শক্তির ব্যবহার বা হুমকির আশ্রয় না নেয়, সে বিষয়ে প্রতিশ্রুতি চেয়ে দ্রুত আনুষ্ঠানিক সংলাপ শুরুর আহ্বান জানানো হয়েছে।

৩. বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুর নিরাপত্তা: বেসামরিক নাগরিক এবং অসামরিক স্থাপনা রক্ষার নীতি কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে দুই দেশ। বিশেষ করে বিদ্যুৎ কেন্দ্র, জ্বালানি অবকাঠামো, পানি শোধনাগার (ডিস্যালাইনেশন প্ল্যান্ট) এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো স্থাপনায় হামলা বন্ধের জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।

৪. নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা: হরমুজ প্রণালি এবং এর সংলগ্ন জলসীমা বৈশ্বিক পণ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়া জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য দ্রুত এই পথ উন্মুক্ত করে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।

৫. জাতিসংঘ সনদের প্রাধান্য: আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘের সনদের ওপর ভিত্তি করে একটি ব্যাপকভিত্তিক শান্তি কাঠামো তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সত্যিকারের বহুপাক্ষিকতা চর্চার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য জাতিসংঘের ভূমিকাকে আরও শক্তিশালী করার কথা বলা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পাকিস্তান এই সংকটে নিজেকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে। অন্যদিকে, বেইজিং এতকাল এই যুদ্ধ থেকে দূরত্ব বজায় রাখলেও এখন পাকিস্তানের সঙ্গে এই যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নিজেদের প্রভাব আরও স্পষ্ট করতে চাইছে। তবে এই প্রস্তাবনাগুলো যুদ্ধরত পক্ষগুলো (যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান) কতটা গ্রহণ করবে, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!