সমুদ্রের ঢেউ আস্তে আস্তে তীরে আছড়ে পড়ছে। বাতাসে লবণাক্ত গন্ধ, দূরে ভাঙা ভবনের কংক্রিটের ধ্বংসাবশেষ- যেন এক নীরব সাক্ষী। এটাই বর্তমানের গাজা। কিন্তু এই দৃশ্যের মাঝেই অদ্ভুত এক ছবি- কিছু কিশোর-কিশোরী মাটিতে বসে, কেউ হাঁটু গেড়ে, কেউবা ছোট প্লাস্টিকের চাটাই পেতে লিখে যাচ্ছে তাদের পরীক্ষার খাতায়। তাদের সামনে নেই কোনো শ্রেণিকক্ষ, নেই ব্ল্যাকবোর্ড, নেই শিক্ষক দাঁড়িয়ে থাকা- তবুও চলছে পরীক্ষা।
এই গল্প শুরু হয়েছিল বহু আগে, যখন ইসরায়েল ও গাজার সংঘাত তীব্র হয়ে ওঠে। একের পর এক হামলায় ধ্বংস হয়ে যায় স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়। শ্রেণিকক্ষগুলো পরিণত হয় ধুলোয়, লাইব্রেরির বই উড়ে যায় আগুনে, আর খেলার মাঠগুলো নীরব হয়ে পড়ে।
২০২৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি। গণিত পরীক্ষা। কোনো পরীক্ষা কেন্দ্র নেই- তাই সমুদ্রই হয়ে উঠল কেন্দ্র। আকাশের নিচে, খোলা বাতাসে, ভয় আর অনিশ্চয়তাকে পাশে রেখে শিক্ষার্থীরা লিখতে বসেছে তাদের ভবিষ্যৎ।
একটি মেয়ের চোখে ক্লান্তি, কিন্তু হাতে দৃঢ়তা। এক ছেলের কপালে ঘাম, তবুও তার দৃষ্টি স্থির খাতার দিকে। তাদের চারপাশে যুদ্ধের স্মৃতি, কিন্তু ভেতরে আছে অন্য এক লড়াই- টিকে থাকার, শেখার, এগিয়ে যাওয়ার।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে মানুষ অবাক হয়ে যায়। কেউ লেখে- ‘সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেছে, কিন্তু তাদের ইচ্ছাশক্তি নয়।’
আরেকজন বলে, ‘স্কুল ভেঙেছে, বিশ্ববিদ্যালয় গুঁড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু স্বপ্নকে ভাঙতে পারেনি কেউ।’
এই দৃশ্য শুধু একটি ভিডিও নয়, এটি প্রতিরোধের প্রতীক। কারণ যেখানে ২০৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস, হাজারো শিক্ষক-শিক্ষার্থী নিহত, লক্ষাধিক শিশু পড়াশোনা থেকে বিচ্ছিন্ন- সেখানে একটি খাতা খুলে বসা মানেই এক ধরনের বিদ্রোহ।

