মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির জবাবে পাল্টা কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। দেশটি হুঁশিয়ারি দিয়েছে, পারস্য উপসাগর জুড়ে জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর বড় ধরনের হামলা চালানো হতে পারে এবং এতদিন ধরে প্রদর্শিত ‘আত্মসংযম’ তুলে নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) কুর্দি সংবাদমাধ্যম কুর্দিস্তান-২৪-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে ইরানের সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর একটি বিবৃতি উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘আমাদের আত্মসংযমের অবসান ঘটেছে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এই অঞ্চলে আমেরিকার মিত্রদের জানা উচিত, আমরা এতদিন সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণের কারণে সংযত ছিলাম। কিন্তু এখন সেই সুরক্ষা তুলে নেওয়া হয়েছে। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হবে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা এবং প্রতিশোধ নেওয়া।’
এদিকে, ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন যে, ইরান যেন মরমুজ প্রণালি দিয়ে মার্কিন-সমর্থিত জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়।
উল্লেখ্য, এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়, যা একে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
চলমান মার্কিন-ইসরায়েলি চাপের মুখেও ইরান এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে। গত শুক্রবার ট্রাম্প ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ার আল্টিমেটাম দেন। অন্যথায় দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দেন তিনি। পরবর্তীতে তিনি সেই সময়সীমা কয়েকবার বাড়ান এবং পানি শোধনাগার ও সেতু ধ্বংসের হুমকিও দেন।
ট্রাম্পের সর্বশেষ নির্ধারিত সময়সীমা মঙ্গলবার রাত ৮টা (ইএসটি) পর্যন্ত ছিল। মঙ্গলবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আজ রাতে একটি গোটা সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে,’—যা বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন