দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শান্তিচুক্তির শর্তাবলি চূড়ান্ত করতে আলোচনায় বসার ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন ও তেহরান। যুদ্ধবিরতির এ অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ।
ইরাক :
যুদ্ধবিরতির খবরকে স্বাগত জানিয়েছে ইরাকের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক বিবৃতিতে বাগদাদ জানায়, একটি স্থায়ী সমাধান অর্জনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়কেই এই চুক্তিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সংকট মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা এবং সংলাপ ও কূটনীতির ভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতি সমর্থন জানানোর পাশাপাশি, মন্ত্রণালয় যুদ্ধবিরতির প্রতি পূর্ণ অঙ্গীকার এবং যেকোনো ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধি থেকে বিরত থাকার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিচ্ছে।
ইরান যুদ্ধে ইরাক জড়িয়ে পড়েছে। তেহরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী ও মার্কিন বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলি বিনিময়ের এক ক্রমবর্ধমান সহিংস চক্র তৈরি হয়েছে দেশটিতে।
মিশর :
মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, যুদ্ধবিরতি সমঝোতা, কূটনীতি এবং গঠনমূলক সংলাপের দারুণ এক সুযোগ এনে দিয়েছে, যাকে অবশ্যই কাজে লাগানো উচিত।
ফেসবুক পোস্টে মন্ত্রণালয় জানায়, সামরিক অভিযান বন্ধ এবং আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের স্বাধীনতাকে সম্মান জানিয়ে একটি প্রতিশ্রুত যুদ্ধবিরতি গড়ে তুলতে হবে।
পোস্টে আরও বলা হয়, মিশর ‘এই অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বাড়াতে’ পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনায় উপসাগরীয় দেশগুলোর ‘বৈধ নিরাপত্তা উদ্বেগকে অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে’।
ইসরায়েল :
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু জানায়, যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন তিনি। এ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি নানা পদক্ষেপ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ইরান যাতে আর কখনো ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক হুমকি হয়ে না উঠতে পারে, সে বিষয়েও তিনি ট্রাম্পকে সমর্থন দেবেন বলে জানিয়েছেন পোস্টে।
নেতানিয়াহুর বিবৃতির শেষ দুই লাইনে বলা হয়েছে, এই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের ওপর কার্যকর হবে না।
ওমান :
ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান ও সব পক্ষের প্রচেষ্টাকে দেশটি স্বাগত জানায়।
জাতিসংঘ :
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সব পক্ষকে যুদ্ধবিরতির শর্তাবলি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। বেসামরিক জীবন রক্ষা এবং মানবিক দুর্ভোগ লাঘবের জন্য জরুরি ভিত্তিতে সংঘাতের অবসানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
জাপান :
জাপানের মুখ্য ক্যাবিনেট সচিব মিনোরু কিহারা সাংবাদিকদের বলেছেন যে, টোকিও একটি ‘চূড়ান্ত চুক্তির’ অপেক্ষায় থাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির খবরকে একটি ‘ইতিবাচক পদক্ষেপ’ হিসেবে স্বাগত জানাচ্ছে।
ইন্দোনেশিয়া :
ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভোন মেওয়েংকা’র বরাতে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানায়, জাকার্তা একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে স্বাগত জানায় এবং ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে নিজ নিজ পক্ষের ‘সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা ও কূটনীতিকে’ সম্মান করার আহ্বান জানিয়েছে।
বিবৃতিতে লেবাননে বিস্ফোরণে নিহত তিন ইন্দোনেশীয় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীর মৃত্যুর পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তেরও আহ্বান জানিয়েছেন মেওয়েংকাং।
মালয়েশিয়া :
মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, যুদ্ধবিরতি উত্তেজনা প্রশমন ও অতি প্রয়োজনীয় শান্তি এবং স্থিতিশীলতা আনয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এবং গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করবে।
অস্ট্রেলিয়া :
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং একটি যৌথ বিবৃতিতে এই খবরকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই চুক্তিটি একটি দীর্ঘস্থায়ী সমাধানে পৌঁছাবে।
নিউজিল্যান্ড :
নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স এই যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানালেও বলেছেন, আরও অনেক কিছু করার প্রয়োজন রয়েছে।
জার্মানি :
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ এই যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং এতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকার জন্য পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আগামী দিনগুলোতে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে ‘যুদ্ধের স্থায়ী অবসান’ নিয়ে আলোচনা করাই লক্ষ্য হওয়া উচিত।
ইউক্রেন :
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালির অবরোধমুক্ত হওয়াকে ইউক্রেন স্বাগত জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা তার দেশের ওপর রাশিয়ার যুদ্ধ বন্ধে ওয়াশিংটনের কাছে অনুরূপ ‘দৃঢ় পদক্ষেপ’ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন