তুরস্ক তার প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। গত ৭ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান দেশটির শীর্ষ প্রতিষ্ঠান রকেটসানে নতুন উৎপাদন কেন্দ্র উদ্বোধন করেন এবং একই সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর কাছে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা হস্তান্তর করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত হয় তুরস্কের অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তি- যার মধ্যে ছিল তাইফুন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, কারা আতমাজা ভূমি-আক্রমণকারী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, এবং হিসার ও সিপার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
অনুষ্ঠানে এরদোয়ান বলেন, নতুন এই স্থাপনা দেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যাপক উৎপাদন নিশ্চিত করবে এবং তুরস্ককে প্রতিরক্ষায় আরও স্বনির্ভর করে তুলবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ শুধু একটি কারখানা উদ্বোধন নয়— বরং তুরস্কের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিবর্তনের প্রতিফলন। একসময় ন্যাটো-নির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল দেশটি এখন নিজস্ব প্রযুক্তিনির্ভর সামরিক শক্তি গড়ে তুলছে।
টিইউবিটাক সাগে-সহ দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে তুরস্ক ধীরে ধীরে একটি পূর্ণাঙ্গ ক্ষেপণাস্ত্র শিল্পভিত্তি গড়ে তুলেছে।
তুরস্কের ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন এখন নতুন স্তরে পৌঁছেছে। বোরা ক্ষেপণাস্ত্রের সাফল্যের পর তাইফুন ক্ষেপণাস্ত্র আরও দীর্ঘ পাল্লা ও নির্ভুল আঘাত হানার সক্ষমতা নিয়ে সামনে এসেছে।
একই সঙ্গে সোম ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং উন্নয়নাধীন গেজগিন ক্ষেপণাস্ত্র তুরস্ককে দূরপাল্লার নিখুঁত আঘাত হানার সক্ষমতা দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তুরস্ক এখন বহুস্তরভিত্তিক আঘাত হানার সক্ষমতা গড়ে তুলছে— যেখানে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র একসঙ্গে কাজ করবে।
বর্তমান বৈশ্বিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই সক্ষমতা তুরস্ককে শুধু প্রতিরক্ষায় নয়, কৌশলগত প্রভাব বিস্তারেও এগিয়ে রাখবে।
উল্লেখ, তুরস্কের এই ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্র উদ্বোধনের পরই দেশটির উপর নতুন করে চড়াও হয়েছে ইসরায়েল।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন