ইরানের ওপর জারি করা মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন। হোয়াইট হাউসের ‘সিচুয়েশন রুমে’ একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে তিনি ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন চুক্তির বেশ কয়েকটি শর্ত তুলে ধরেন।
ট্রাম্পের দেওয়া প্রধান শর্তসমূহ
১. পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ : ইরানকে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে তারা কখনোই কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা সংগ্রহ করবে না।
২. হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা : বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথ হরমুজ প্রণালি কোনো ধরনের শুল্ক বা টোল ছাড়াই উভয়মুখী আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখতে হবে।
৩. সামুদ্রিক মাইন অপসারণ : হরমুজ প্রণালিতে ইরানের পেতে রাখা কোনো সামুদ্রিক মাইন বা বিস্ফোরক থাকলে তা দ্রুত অপসারণ বা নিষ্ক্রিয় করতে হবে। ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন অত্যাধুনিক মাইন সুইপার ইতোমধ্যে অসংখ্য মাইন ধ্বংস করেছে।
৪. সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস : প্রায় ১১ মাস আগে মার্কিন বি-২ বোমারু বিমানের হামলায় মাটির নিচে চাপা পড়া ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বা ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ খুঁজে বের করে ধ্বংস করা হবে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এবং ইরানের সমন্বয়ে যুক্তরাষ্ট্র এই কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলে জানান ট্রাম্প।
‘বাড়ি ফিরে যান’— নাবিকদের উদ্দেশে ট্রাম্প
নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প অবরুদ্ধ জাহাজগুলোর নাবিক ও কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আমাদের অভূতপূর্ব নৌ-অবরোধের কারণে যেসব জাহাজ হরমুজ প্রণালিতে আটকে ছিল, তারা এখন নিজ দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিতে পারে। আপনাদের প্রিয় প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে পরিবারের সবাইকে শুভেচ্ছা জানাবেন।
তিনি আরও বলেন, আপাতত কোনো অর্থ লেনদেন বা তহবিল ছাড় করা হবে না। তবে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই পক্ষ নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য তিনি সিচুয়েশন রুমে বৈঠকে বসছেন বলেও জানান।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘোষণার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন