গাজা সিটিকে ‘যুদ্ধক্ষেত্র’ ঘোষণা করে শহরটিতে ব্যাপক শক্তি নিয়ে হামলার প্রাথমিক ধাপ শুরু করেছে ‘ইসরায়েলি’ সেনাবাহিনী। সেই সঙ্গে দুর্ভিক্ষে বিপর্যস্ত এ শহরে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ‘ইসরায়েলি’ সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আভিখাই আদ্রায়ি লেখেন, ‘আমরা অপেক্ষা করছি না। গাজা সিটিতে হামলার প্রাথমিক অভিযান ইতোমধ্যেই শুরু করেছি। বর্তমানে আমরা শহরের প্রান্তে ব্যাপক শক্তি নিয়ে অভিযান চালাচ্ছি।’
সেনাবাহিনী আরও জানায়, শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে গাজা সিটির জন্য কোনো ধরনের কৌশলগত যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে না।
জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, গাজা সিটিতে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুর সংখ্যা ভয়াবহভাবে বেড়ে গেছে।
ইউনিসেফের মুখপাত্র টেস ইংগ্রাম আল জাজিরাকে বলেন, ‘মাঠপর্যায়ে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে দুর্ভিক্ষ গাজা সিটিকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। অনেক অভিভাবক পুরোপুরি হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন, কারণ তাদের আর কোনো উপায় নেই।’
পুষ্টিকেন্দ্রে কর্মীরা শিশুদের বাহুর মাপ নিয়ে অপুষ্টি নির্ণয় করছেন। ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের উচ্চ-শক্তির বিস্কুট দেওয়া হচ্ছে। আর মারাত্মকভাবে অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের দেওয়া হচ্ছে বিশেষ চিকিৎসা খাদ্যপেস্ট। তবে সরবরাহ কম থাকায় পর্যাপ্ত সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন (আইপিসি) সম্প্রতি সতর্ক করেছে, গাজা সিটি ছাড়াও শিগগিরই দুর্ভিক্ষ অন্য এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে, কারণ ‘ইসরায়েল’ মানবিক সহায়তা প্রবাহে কঠোর বিধিনিষেধ অব্যাহত রেখেছে।
আগস্টের শুরু থেকে গাজা সিটিতে স্থল ও আকাশপথে টানা বোমাবর্ষণ চালাচ্ছে ‘ইসরায়েল’। এতে শহরের বাসিন্দারা পশ্চিমাঞ্চলের দিকে ছুটে যাচ্ছেন। ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, শুধু ৬ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত জেইতুন ও সাবরা এলাকায় এক হাজারেরও বেশি আবাসিক ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
নিহাদ মাদুখ নামে এক বাসিন্দা বলেন, ‘হেলিকপ্টার থেকে টানা গোলাবর্ষণ চালানো হয়। আমাদের মাত্র ১৫০ মিটার দূরে আগুনের বেল্ট তৈরি করা হয়। পুরো এলাকা জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভয়াবহ বোমাবর্ষণ ছিল এটি।’
আহমেদ মোকাত নামে অন্য এক বাস্তুচ্যুত বাসিন্দা জানান, তিনি হামলা এড়াতে বারবার স্থান পরিবর্তন করছেন। তিনি বলেন, ‘গত রাতে আমার মাথার পাশেই ধ্বংসাবশেষ ছিটকে পড়েছে। এখন আবার বের হতে হবে, কোথায় যাব তা শুধু আল্লাহ জানেন।’