ঢাকা শনিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৫

জাতিসংঘের বৈঠকে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্টের অংশগ্রহণ আটকে দিল যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: আগস্ট ৩০, ২০২৫, ১১:৪৭ এএম
ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। ছবি- সংগৃহীত

ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে পারবেন না। আব্বাসসহ প্রায় ৮০ জন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তার ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অভিযোগ করেছেন, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ শান্তি প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং একটি ‘কাল্পনিক ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের একতরফা স্বীকৃতি’ চাইছে।

তিনি জানান, জাতিসংঘ সদর দপ্তর চুক্তি অনুযায়ী নিউইয়র্কে ফিলিস্তিনি মিশনের প্রতিনিধিরা বৈঠকে অংশ নিতে পারবেন, তবে আব্বাসসহ প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও) ও ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের (পিএ) সদস্যদের ভিসা বাতিল করা হয়েছে।

এ সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে, কারণ জাতিসংঘ সদর দপ্তর চুক্তিতে বলা আছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো দেশের সম্পর্ক যেমনই হোক না কেন, বিদেশি কর্মকর্তাদের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ বৈঠকে অংশগ্রহণে বাধা দেওয়া যাবে না।

এদিকে, মাহমুদ আব্বাসের কার্যালয় বিষয়টিকে ‘আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সদর দপ্তর চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন’ আখ্যা দিয়েছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘জাতিসংঘে ফিলিস্তিন একটি পর্যবেক্ষক সদস্য রাষ্ট্র, এ অবস্থায় ভিসা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। যুক্তরাষ্ট্রকে অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে।’

‘ইসরায়েল’র পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সা’আর যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বরাবরই দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান প্রত্যাখ্যান করে আসছেন। তার দাবি, ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়া মানে হবে ‘হামাসের সন্ত্রাসবাদকে পুরস্কৃত করা’।

১৯৭৪ সাল থেকে জাতিসংঘে পর্যবেক্ষক মর্যাদা ভোগ করছে পিএলও, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফিলিস্তিনিদের প্রতিনিধিত্ব করে। তবে তারা প্রস্তাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পায় না।

বর্তমানে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্যের মধ্যে ১৪৭টি দেশ স্বীকৃতি দিয়েছে। আগামী অধিবেশনে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

তবে বাস্তবে ফিলিস্তিনের কোনো নির্ধারিত সীমান্ত নেই। পশ্চিম তীরে ‘ইসরায়েলি’ দখলদারিত্ব বাড়ছে, যা আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ। গাজাতেও একই পরিকল্পনার দাবি উঠছে। তাই রাষ্ট্রের স্বীকৃতি পেলেও ভূমির বাস্তবতায় পরিবর্তন আসবে না বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।

জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক জানান, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা হবে। তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘের সব সদস্য ও পর্যবেক্ষক রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা জরুরি, বিশেষ করে আসন্ন দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানবিষয়ক বৈঠকের আগে।’

গত বছরের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ ‘ইসরায়েলি’ নিহত এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। এরপর গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে ‘ইসরায়েল’। হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত গাজায় ৬৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।