ইংল্যান্ডের দক্ষিণ ওয়েলসের ওগমোর সমুদ্রসৈকত থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুলসংখ্যক রহস্যজনক জুতা ও জুতার সোল। অদ্ভুত দর্শন ও জীর্ণ এই জুতাগুলো নিয়ে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। জুতাগুলোর বয়স ও গঠন দেখে এগুলো ভিক্টোরিয়ান যুগের হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
উদ্ধার হওয়া জুতাগুলোর অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। শুধু সম্পূর্ণ জুতাই নয়, আলাদা আলাদা সোলও পাওয়া গেছে সমুদ্রসৈকতের বিভিন্ন অংশে। প্রশ্ন উঠছে, এত বিপুলসংখ্যক পুরোনো জুতা এলোই বা কোথা থেকে? যদি সমুদ্রের ঢেউয়ে ভেসে এসে থাকে, তবে সেগুলো সমুদ্রে পড়ল কীভাবে?
এই রহস্য আরও গভীর হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্যে। তাদের দাবি, গত কয়েক বছর ধরেই মাঝেমধ্যে এই সমুদ্রসৈকতে এমন পুরোনো জুতা দেখা যেত।
ঘটনার উৎস খুঁজতে গিয়ে তদন্তকারীরা আপাতত দুটি সম্ভাবনার কথা ভাবছেন। প্রথমত, ধারণা করা হচ্ছে, বিংশ শতাব্দীতে ইতালি থেকে আসা কোনো পণ্যবাহী জাহাজ এই এলাকায় নোঙর করার সময় জুতাগুলো দুর্ঘটনাবশত সমুদ্রে পড়ে যেতে পারে।
দ্বিতীয় সম্ভাবনা অনুযায়ী, এই জুতাগুলো হয়তো ব্যবহারযোগ্য ছিল না ফলে সেগুলো ওগমোর নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। নদীর স্রোতে ভেসে এসে জুতাগুলো নদীর মোহনায় জমা হয় এবং ওগমোর সমুদ্রসৈকতের কাছে হওয়ায় সেখানেই দীর্ঘদিন ধরে সেগুলো পড়ে ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে এই দুই ব্যাখ্যাই আপাতত অনুমানমাত্র। নির্ভরযোগ্য কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে জুতার এই রহস্যের প্রকৃত উৎস আজও অজানাই রয়ে গেছে।
এদিকে বিবিসিসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এই অদ্ভুত ঘটনাটি প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি ঘিরে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে।

