ইরান-আমেরিকা উত্তেজনার মধ্যেই নিজেদের সামরিক শক্তি আরও বাড়ানোর পথে এগিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটি নতুন ও আরও শক্তিশালী সলিড জ্বালানির রকেট ইঞ্জিনের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
এই পরীক্ষার মাধ্যমে পিয়ংইয়ংয়ের দূরপাল্লার আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (আইসিবিএম) ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা।
পরীক্ষাটি সরাসরি উপস্থিত থেকে পর্যবেক্ষণ করেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। তিনি সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানী ও সামরিক কর্মকর্তাদের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে আরও উন্নত সামরিক প্রযুক্তি উন্নয়নের ওপর জোর দেন।
উত্তর কোরিয়ার দাবি, নতুন এই সলিড জ্বালানির ইঞ্জিন প্রায় ২,৫০০ কিলোনিউটন ধাক্কাশক্তি (থ্রাস্ট) উৎপাদন করতে সক্ষম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তরল জ্বালানির তুলনায় সলিড জ্বালানিভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র দ্রুত উৎক্ষেপণ করা যায় এবং যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তা অধিক কার্যকর।
এদিকে, ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনায় যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক মনোযোগ বাড়িয়েছে। এর ফলে দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যেমন থাড (টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স) এবং প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আংশিকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে সিউলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৫৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া ঘনিষ্ঠ সামরিক অংশীদার। বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রায় ২৮ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ সামরিক ঘাঁটি ক্যাম্প হামফ্রেস এবং ওসান বিমান ঘাঁটি অবস্থিত, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ মধ্যপ্রাচ্যের দিকে সরে যাওয়ার সুযোগ কাজে লাগাতে চাইছে উত্তর কোরিয়া। একইসঙ্গে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নীরব সমর্থনও পিয়ংইয়ংকে উৎসাহিত করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে উত্তর কোরিয়ার পক্ষে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে জড়ানো কঠিন বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করাই পিয়ংইয়ংয়ের প্রধান লক্ষ্য।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন